অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই সমুদ্রসৈকতে গত ১৪ ডিসেম্বর ইহুদিদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় জড়িত দুই ব্যক্তি কোনো আন্তর্জাতিক বা স্থানীয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। হামলাকারীরা নিজেরাই পরিকল্পনা করে এই আক্রমণ চালিয়েছেন এবং এর পেছনে কোনো বৃহত্তর সন্ত্রাসী চক্রের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ কমিশনার ক্রিসি ব্যারেট জানান, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে সাজিদ আকরাম (৫০) এবং তাঁর ছেলে নাভিদ আকরাম (২৪) অন্য কারও নির্দেশ বা সহায়তা ছাড়াই হামলাটি সংঘটিত করেন। তদন্তে তাঁদের সঙ্গে কোনো আন্তর্জাতিক কিংবা দেশীয় উগ্রবাদী সংগঠনের প্রত্যক্ষ যোগাযোগের প্রমাণ মেলেনি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর সাজিদ ও নাভিদ ফিলিপাইনের ম্যানিলা হয়ে দাভাও শহরে যান এবং ২৯ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসেন। তবে ফিলিপাইনে অবস্থানকালে তারা কোনো সামরিক প্রশিক্ষণ বা হামলার প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেননি। ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই সময় তারা বেশিরভাগ সময় হোটেলেই অবস্থান করছিলেন।
কমিশনার ব্যারেট আরও বলেন, ফিলিপাইন সরকার দুই হামলাকারীর চলাচলের সিসিটিভি ফুটেজ অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। এসব ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, হামলার পরিকল্পনা তারা নিজেরাই করেছে। তবে ফুটেজগুলো আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এর আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ মন্তব্য করেছিলেন, হামলাকারীরা ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে থাকতে পারেন। যদিও পুলিশ ইতোমধ্যে এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। ১৯৯৬ সালের পর এটি অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বন্দুক হামলা বলে বিবেচিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৪ ডিসেম্বর বন্ডাই সমুদ্রসৈকতে ইহুদিদের বার্ষিক ‘হানুক্কাহ’ উৎসব উপলক্ষে এক হাজারের বেশি মানুষ সমবেত হয়েছিলেন। সে সময় সাজিদ ও নাভিদ আকরাম সেখানে বন্দুক হামলা চালান। পুলিশের পাল্টা গুলিতে সাজিদ আকরাম ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত অবস্থায় নাভিদ আকরামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ১৫টি হত্যাসহ মোট ৫৯টি অভিযোগ আনা হয়েছে এবং আগামী এপ্রিলে তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।










