অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল নির্বাচনে মেলবোর্নের মাকনামারা আসন দীর্ঘ সময় ধরে লেবার পার্টির নিরাপদ আসন হিসেবে পরিচিত। ১৯০৬ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই আসনটি লেবারের দখলে ছিল, এবং ২০২২ সালের নির্বাচনে লেবার প্রার্থী জোশ বার্নস এই আসনটি পুনরায় জিতেছিলেন। তবে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলোর প্রভাবে এই আসনটি এখন পরিবর্তনের মুখে।
অতীতের ফলাফল
২০১৯ সালের নির্বাচনে, লেবারের জোশ বার্নস ৩১.৮% ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছিলেন, এবং গ্রিনসের স্টেফ হডজিন্স-মে ২৯.৭% ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। লিবারেল পার্টির প্রার্থী কোলিন হারকিন ২৯.০% ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। পছন্দের ভিত্তিতে গণনা শেষে, বার্নস ৬২.২% ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
বর্তমান পরিস্থিতি
২০২৫ সালের ফেডারেল নির্বাচনের আগে, মাকনামারা আসনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিণত হয়েছে। গ্রিনস পার্টির প্রার্থী সনিয়া সেমেন্স এই আসনটি জয়ের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, ২০২২ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৯৮ ভোটের ব্যবধানে গ্রিনস এই আসনটি হারিয়েছিল। সেমেন্স মাকনামারার বাসিন্দাদের জন্য ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বড় কর্পোরেশনগুলোর ওপর কর আরোপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক প্রভাব
ইসরায়েল-গাজা সংঘাতের প্রভাব মাকনামারা আসনের রাজনীতিতেও পড়েছে। এই আসনে বড় একটি ইহুদি জনগণ বসবাস করে, এবং লেবারের প্রার্থী জোশ বার্নস ইসরায়েলকে সমর্থন না করার জন্য সমালোচিত হচ্ছেন। অন্যদিকে, গ্রিনস প্রার্থী সেমেন্স ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করছেন।
ভবিষ্যৎ
মাকনামারা আসনটি এখন একটি ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিণত হয়েছে। লেবার, গ্রিনস এবং লিবারেল পার্টির মধ্যে ভোট ভাগাভাগি হওয়ার কারণে, পছন্দের ভিত্তিতে ভোট গণনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই আসনের ফলাফল শুধুমাত্র মেলবোর্নের নয়, বরং পুরো অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
মাকনামারা আসনের এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক চিত্রে নতুন দিশা দেখাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই আসনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।










