Home বাংলাদেশ এক বছর আগে হাইকোর্টের রায়ে আন্দোলনের সূত্রপাত, এরপর শেখ হাসিনার পতন

এক বছর আগে হাইকোর্টের রায়ে আন্দোলনের সূত্রপাত, এরপর শেখ হাসিনার পতন

156
0

২০২৪ সালের ৫ জুন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ঘটনা ঘটে, যা পরবর্তীতে দেশব্যাপী আন্দোলন এবং সরকার পতনের দিকে নিয়ে যায়।

হাইকোর্টের এক রায়ের পর, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের দুই মাসের মধ্যে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে, যা ছিল দেড় দশকের দীর্ঘ শাসনের অবসান। সরকার পতনের পর, ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়।

২০১৮ সালে, শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে, শেখ হাসিনা সরকার সরকারি চাকরির কোটা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ২০১৮ সালে পরিপত্র জারি করে।

তিন বছর পর ২০২১ সালে, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অহিদুল ইসলামসহ সাতজন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন, চ্যালেঞ্জ করে কোটা বাতিলের পরিপত্রের বৈধতা। ৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করে, এবং ২০২৪ সালের ৫ জুন রায়ে কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে, কোটা পদ্ধতি বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয় এবং পরিপত্র জারি করতে বলা হয়।

এরপর, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের প্রথম দিনে, শিক্ষার্থীরা কোটা পদ্ধতির যৌক্তিক সংস্কার চেয়ে আন্দোলন শুরু করে। প্রথমে মানববন্ধন ও মিছিলের মতো সাধারণ কর্মসূচি থাকলেও পরে ‘বাংলা ব্লকেড’ নামে অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা এক দফা দাবি তুলে ধরেছিল—‘অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক’ কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লিখিত অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটাকে ‘ন্যূনতম পর্যায়ে’ আনতে।

প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন না করলেও আন্দোলনের তীব্রতা বাড়ার পর তা করে। ১০ জুলাই আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের ওপর চার সপ্তাহের স্থিতাবস্থা দেয়।

১৪ জুলাই, যখন আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যেতে থাকে, শেখ হাসিনা বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটার বিষয়টি আদালতেই ফয়সালা করতে হবে। তবে পরদিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করে, যা দেশের নানা অঞ্চলে ছাত্রসমাজের ক্ষোভের জন্ম দেয়।

এরপর, ১৬ জুলাই পুলিশ গুলি চালিয়ে এবং ছাত্রলীগ হামলা চালিয়ে ছয়জনকে হত্যা করে। ছাত্রসমাজ উত্তাল হয়ে ওঠে, এবং সারা দেশে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু হয়। এর ফলস্বরূপ, সরকার সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে এবং শিক্ষার্থীদের হলত্যাগের নির্দেশ দেয়।

১৭ জুলাই, শেখ হাসিনা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করার আহ্বান জানান, কিন্তু আন্দোলনকারীরা তাতে সাড়া না দিয়ে ১৮ জুলাই ‘শাটডাউনের’ ঘোষণা দেয়, ফলে সারাদেশ অচল হয়ে পড়ে এবং প্রাণহানির সংখ্যা ৪১ জনে পৌঁছায়।

এ পরিস্থিতির মধ্যে, সরকার মোবাইল এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়, যা দেশজুড়ে পুরোপুরি ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ২১ জুলাই, আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে নতুন কোটা ব্যবস্থার রূপরেখা দেয়, যার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের জন্য ৫%, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী/তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ১% কোটা সংরক্ষণ রাখা হয়, এবং বাকি ৯৩% পদে নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে।

গেজেট জারি হওয়ার পর, ছাত্র-জনতার আন্দোলন ক্রমেই তীব্র হয়ে ওঠে। ৫ আগস্ট, শেখ হাসিনা সরকার পদত্যাগ করে এবং দেশ ছাড়ে। সংসদ ভেঙে দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত নিয়ে রাষ্ট্রপতি অন্তর্বর্তী সরকার শপথ করান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here