Home বাংলাদেশ বনভূমিকে ‘নেচার লার্নিং হাব’-এ রূপান্তরের প্রস্তাব, জাইকার সঙ্গে পরিবেশ উপদেষ্টার বৈঠক

বনভূমিকে ‘নেচার লার্নিং হাব’-এ রূপান্তরের প্রস্তাব, জাইকার সঙ্গে পরিবেশ উপদেষ্টার বৈঠক

175
0

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এর নির্বাহী সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মিয়াজাকি কাতসুরার সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বৈঠকে, পরিবেশ উপদেষ্টা প্রস্তাব দিয়েছেন যে দেশের বন সংলগ্ন রিসোর্স সেন্টারগুলোকে ‘নেচার লার্নিং হাব’-এ রূপান্তর করা হোক, যা বিশেষ করে নগরবাসী এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে তিনি আরও জাইকাকে বাংলাদেশ ফরেস্ট ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (বিএফআইডিসি) এর আধুনিকায়নে সহযোগিতা করতে বলেছেন, যাতে পরিবেশবান্ধব আসবাবপত্র উৎপাদন সম্ভব হয় এবং নতুন বাজারে প্রবেশ করা যায়। এছাড়া, সাফারি পার্কগুলোর উন্নয়ন এবং বন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে শক্তিশালী করারও আহ্বান জানান, যা অবৈধ কাঠ আহরণ প্রতিরোধে সহায়ক হবে।

এছাড়া, পরিবেশ উপদেষ্টা নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে জানান, সরকারি দপ্তরগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।

তিনি আরও জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড এবং নতুন “বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ” প্ল্যাটফর্মের কথাও উল্লেখ করেন, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে। পাশাপাশি, তিনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য একটি পৃথক ট্রাস্ট গঠনের প্রস্তাব দিয়ে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন।

মিয়াজাকি কাতসুরা বাংলাদেশের আত্মনির্ভরশীল উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে জাইকার পক্ষ থেকে “জিরো দারিদ্র্য” ও “জিরো বেকারত্ব”-এর বৈশ্বিক লক্ষ্যের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তিনি ‘ক্লিন ঢাকা’ প্রকল্পসহ পরিবেশ খাতে জাইকার দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা এবং অভিযোজন কার্যক্রমে তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা, জ্ঞান বিনিময়, জ্বালানি রূপান্তর ও বেসরকারি বিনিয়োগের ওপর চারটি মূল সহায়তা ক্ষেত্র তুলে ধরেন।

এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসেন চৌধুরী এবং জাইকার দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক ইয়ামাদা তেতসুয়া, বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ইচিগুচি তোমোহিদে ও সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ মিউরা মারি।

দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গঠিত এই বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনে অভিযোজন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বন ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে গভীর সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here