ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত হলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও রাজনৈতিক কর্মী শরিফ ওসমান বিন হাদি। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সোয়া ৩টায় তাকে সমাহিত করা হয়।
এর আগে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা পড়ান তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপি, জামায়াতে ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিশিষ্ট নাগরিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সাধারণ মানুষের বিশাল উপস্থিতি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
হাদির দাফনের সময়ও হাজারো মানুষ তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন। অনেকেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, মা-বাবা, তরুণ-তরুণী, বৃদ্ধ-শিশু—সকলেই এই প্রয়াত নেতার মৃত্যুতে আবেগে ভেঙে পড়েছেন।
শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের অগ্রণী নেতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষে শিক্ষকতায় যুক্ত ছিলেন। রাজনৈতিকভাবে তিনি ভারতীয় আধিপত্যবাদ এবং আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ নামের একটি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠন করে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেন।
তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার সময় রাজধানীর বিজয়নগরে মোটরসাইকেলে আসা দুই বন্দুকধারীর গুলিতে হাদি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানকার একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন হিসেবে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম মাসুদের নাম উঠে আসে, যিনি বর্তমানে পলাতক।
হাদির মৃত্যুর পর সরকারের পক্ষ থেকে ২০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়। দেশের সরকারি-বেসরকারি ভবন ও বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।
মৃত্যুর আগে নিজের ফেসবুক পেজে ওসমান হাদি জানিয়েছিলেন, তিনি দেশি-বিদেশি নম্বর থেকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, “প্রাণনাশের শঙ্কা থাকলেও ইনসাফের লড়াই থেকে পিছু হটবো না।”
তার এই অবিচল অবস্থান এবং মৃত্যুর ঘটনার পর দেশজুড়ে তার প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই বলছেন, “এক হাদি চলে গেছে, লাখো হাদির জন্ম হবে।”










