
ইরান-ইসরায়েল সংঘাত যখন ধীরে ধীরে থিতিয়ে আসছে, তখন বিশ্ব রাজনীতির চিত্রপটে সুবিধাভোগী হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের বি-টু বোমারু বিমানের মাধ্যমে ইরানে চালানো ধ্বংসাত্মক অভিযানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব দেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শনী।
এরই পরিণতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপে। যুক্তরাজ্য এখন কমপক্ষে এক ডজন পারমাণবিক অস্ত্রবাহী এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কার্যালয়ের মতে, দেশের পারমাণবিক সক্ষমতা আরও জোরদার করতেই এই উদ্যোগ।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যের পারমাণবিক অস্ত্র বহনের একমাত্র উপায় সাবমেরিন-ভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র। তবে বিশ্ব পরিস্থিতির অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি মাথায় রেখে দেশটি পারমাণবিক সক্ষমতায় বৈচিত্র আনতে চাইছে। ব্রিটিশ সরকার এ বিনিয়োগকে জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখছে।
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি জোটের জন্য যুক্তরাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী অবদান।
এফ-৩৫এ কেনার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের আগ্রহের পেছনে রয়েছে এর বহুমুখী ব্যবহারযোগ্যতা। মার্কিন নির্মাতা লকহিড মার্টিনের এই বিমানটি এফ-৩৫বি-র মতো হলেও অতিরিক্তভাবে পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম। বর্তমানে সাতটি ন্যাটো সদস্য দেশ এই বিমান পরিচালনা করছে এবং এগুলো মার্কিন বি৬১ পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম।
একজন পাইলট দ্বারা চালিত সিঙ্গেল ইঞ্জিনের স্টিলথ এয়ারক্রাফটটি আকাশে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, আক্রমণ, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমে কার্যকর। এছাড়া বিমানটির আরও দুটি ভ্যারিয়েন্টও রয়েছে।
পুরো চিত্রে দেখা যাচ্ছে, ইউরোপ আবারও অস্ত্র প্রতিযোগিতার দিকে ঝুঁকছে। রাশিয়াকে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখিয়ে অনেক দেশ সামরিক ব্যয় বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যাৎস ঘোষণা দিয়েছেন, জার্মানি ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী স্থলবাহিনী গঠনের লক্ষ্যে সামরিক খরচ বাড়াবে।
ন্যাটোর হেগ সম্মেলনে প্রতিরক্ষা ব্যয় ২% থেকে ৫% পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমোদনও আসতে পারে। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য নতুন সাবমেরিন ও অস্ত্র কারখানা নির্মাণে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।
এই সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির একটি পটভূমি তৈরি হয়েছে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের পর। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে ন্যাটোর আর্থিক বোঝা বহন করছে। তার প্রশাসন হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, যদি ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের অংশ না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র জোট ছেড়ে দিতে পারে।
ফলে প্রশ্ন উঠেছে—এই অস্ত্র প্রতিযোগিতার ভেতরে, ইউরোপ আদতে কার দিকেই খেলছে?










