প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে, যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ছাপিয়ে আজ ধ্বনিত হলো—”এসো হে বৈশাখ, এসো এসো”। স্বদেশ থেকে হাজার মাইল দূরে থাকলেও বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উদযাপনে কোনো কমতি ছিল না অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের। জীর্ণ পুরাতনকে পেছনে ফেলে নতুন সম্ভাবনা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বার্তা নিয়ে আগত বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে সাড়ম্বরে বরণ করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে বসবাসরত বিশাল বাংলাদেশী কমিউনিটি।
ভোরের সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই সিডনি, মেলবোর্ন, ক্যানবেরা, ব্রিসবেন, পার্থ এবং অ্যাডিলেডের আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতির আবাহনে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব বয়সের প্রবাসী বাংলাদেশী আজ এক কাতারে শামিল হয়েছিলেন এই মহামিলন মেলায়।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তা
অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটির এই বৃহত্তম উৎসব উপলক্ষে বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ (Anthony Albanese)। তাঁর বাণীতে তিনি প্রবাসী বাঙালিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ অস্ট্রেলিয়ার বহুমাত্রিক সমাজ ও অর্থনীতিতে বাংলাদেশী কমিউনিটির সক্রিয় এবং গঠনমূলক অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “পহেলা বৈশাখ বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি, যা একতা, সম্প্রীতি এবং নতুন শুরুর বার্তা দেয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, “অস্ট্রেলিয়ার সমৃদ্ধ বৈচিত্র্যময় সমাজ গঠন ও সাফল্যের পেছনে বাংলাদেশী অস্ট্রেলিয়ানদের কঠোর পরিশ্রম ও সংস্কৃতির বড় ভূমিকা রয়েছে।” প্রধানমন্ত্রীর এই শুভেচ্ছা বার্তা প্রবাসীদের মধ্যে উৎসবের আমেজকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং তাঁদের নতুন স্বদেশে নিজেদের অস্তিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
শিকড়ের টানে নতুন প্রজন্মের মেলবন্ধন
অস্ট্রেলিয়ায় পহেলা বৈশাখ উদযাপনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের শিশুদের মধ্যে বাংলাদেশী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। অনেক মা-বাবা তাঁদের সন্তানদের দেশীয় পোশাক পরিয়ে মেলায় নিয়ে আসেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিশুরা বাংলা গান ও নৃত্য পরিবেশন করে, যা ছিল অত্যন্ত আনন্দদায়ক।
সব মিলিয়ে, অস্ট্রেলিয়ায় পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩-এর এই বর্ণিল আয়োজন প্রমাণ করে যে, ভৌগোলিক দূরত্ব বাঙালির প্রাণের উৎসবকে ফিকে করতে পারে না। বরং, দূর পরবাসে এটি হয়ে ওঠে বাঙালির জাতীয় ঐক্যের প্রতীক এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রেরণা। নতুন বছরে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি ও অনাবিল আনন্দ বয়ে আনবে—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।










