অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে আবারও Indigenous বা আদিবাসী জনগণের স্বীকৃতি ও মর্যাদা ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এবার বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে “Welcome to Country” অনুষ্ঠান—যা অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সরকারী ও আনুষ্ঠানিক আয়োজনের শুরুতে ঐতিহ্যবাহীভাবে আদিবাসীদের ভূমি ও সংস্কৃতিকে সম্মান জানাতে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। লিবারেল পার্টি সম্প্রতি একটি অঙ্গীকার প্রকাশ করেছে, যেখানে তারা এই অনুষ্ঠানগুলোর পরিমাণ কমানোর পরিকল্পনার কথা জানায়। দলটির নেতারা বলছেন, তারা এই অনুষ্ঠানগুলোকে কমিয়ে “বাধ্যতামূলক নয়, বরং ঐচ্ছিক” হিসেবে দেখতে চান।
লিবারেল পার্টির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, এই অনুষ্ঠানগুলোতে বিশাল অংকের সরকারি অর্থ ব্যয় হচ্ছে, যা করদাতাদের জন্য যথার্থ নয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট ২১টি সরকারি বিভাগ মিলে প্রায় ৩০০টি “Welcome to Country” অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে, যার পেছনে খরচ হয়েছে প্রায় ৪৫৩,০০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। উদাহরণস্বরূপ, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একাই ৪১,৮০০ ডলার ব্যয় করেছে এই অনুষ্ঠানের পেছনে, আর অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব স্পোর্ট ৪৭,০০০ ডলার এবং ন্যাশনাল ইন্ডিজেনাস অস্ট্রেলিয়ানস এজেন্সি ব্যয় করেছে ৬০,০০০ ডলারেরও বেশি।
লিবারেল নেতারা মনে করছেন, এই ধরণের ব্যয় অপ্রয়োজনীয় এবং অনেক সময় আদিবাসী সংস্কৃতিকে জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও তাদের অভিযোগ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট স্পষ্টভাবে বলেন, “আমি এ ধরনের Welcome to Country অনুষ্ঠান দেখে ক্লান্ত। অস্ট্রেলিয়া শুধু কিছু মানুষের নয়—এটা সবার জন্য।” তিনি আরও বলেন, এই অনুষ্ঠানগুলো অস্ট্রেলিয়াকে বিভক্ত করছে এবং ইতিহাসকে পক্ষপাতদুষ্টভাবে উপস্থাপন করছে।
তবে এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। তিনি বলেন, এই অনুষ্ঠানগুলো অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক দিক। তিনি সম্প্রতি ANZAC Day অনুষ্ঠানে Welcome to Country অংশে কিছু ব্যক্তির “বু” দেয়ার ঘটনাকে “কাপুরুষোচিত ও ঘৃণ্য আচরণ” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যারা এই অনুষ্ঠানের সময় অসম্মানজনক আচরণ করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এখন প্রশ্ন উঠছে, আদিবাসী সংস্কৃতি এবং ইতিহাসকে কেন্দ্র করে অস্ট্রেলিয়ার সমাজে যে বিভক্তি তৈরি হয়েছে, তা নির্বাচনের সময় কতটা প্রভাব ফেলবে। ২০২৫ সালের ফেডারেল নির্বাচনকে সামনে রেখে, রাজনৈতিক দলগুলোর Indigenous নীতিমালা, সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি ও ঐতিহ্যগত মূল্যবোধের প্রতি অবস্থান স্পষ্টতই ভোটারদের মত পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।










