Home বিশ্ব হরমুজ প্রণালী অবরোধের জন্য মাইন লোড করেছিল ইরান, দাবি মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের

হরমুজ প্রণালী অবরোধের জন্য মাইন লোড করেছিল ইরান, দাবি মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের

183
0

ইসরায়েলের সঙ্গে হামলা-পাল্টা হামলার মাঝে তেহরান হরমুজ প্রণালী অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা জানতে পারে যে, ইরান তাদের নৌযানে সামুদ্রিক মাইন লোড করেছে পারস্য উপসাগরে। যদিও এই মাইনগুলো পরে ব্যবহৃত হয়নি, খবরটি ওয়াশিংটনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল।

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলে, তাই এই প্রস্তুতির খবর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারত এবং বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারত।

২২ জুন মার্কিন বাহিনী ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর, ইরানের পার্লামেন্ট হরমুজ প্রণালী বন্ধের একটি প্রস্তাব পাস করেছিল। তবে এটি বাধ্যতামূলক ছিল না এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপর নির্ভর করছিল।

তবে একটি বিষয় এখনও পরিষ্কার নয়, তা হলো ইরান সত্যিই প্রণালীটি বন্ধ করতে চেয়েছিল, নাকি মাইন ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রকে ধোঁকা দেওয়ার কৌশল ছিল।

বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের মূল দায়িত্ব হলো এ অঞ্চলের বাণিজ্যিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সাধারণত এই বহর চারটি মাইন পরিষ্কারকারী (এমসিএম) জাহাজ মোতায়েন রাখে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক আক্রমণের আশঙ্কায় বাহরাইন থেকে সব মাইন পরিষ্কারকারী জাহাজ সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে পরিচালিত অপারেশন ‘মিডনাইট হ্যামার’ এবং অন্যান্য সফল অভিযানগুলোর ফলে হরমুজ প্রণালী এখন উন্মুক্ত রয়েছে এবং সেখানে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বা জাতিসংঘে ইরানের মিশন তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

হরমুজ প্রণালীর প্রস্থ মাত্র ২১ মাইল, তবে এটি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার এবং ইরানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর তেলের প্রধান রপ্তানি পথ। ইরানের কাছে প্রচুর পরিমাণে নৌ মাইন মজুত রয়েছে এবং এগুলো দ্রুত মোতায়েন করার সক্ষমতাও আছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে ইরান আরও পদক্ষেপ নিতে পারে, যদিও তারা কাতারে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here