অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য বিদেশ ভ্রমণ এখন শুধু বিমান টিকিটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ফ্লাইটে ওঠার আগেই নানা “লুকানো খরচ” যোগ হয়ে একটি সাধারণ ছুটির বাজেটকে অনেক বেশি ব্যয়বহুল করে তুলছে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, বিমানবন্দরে পৌঁছানো, পার্কিং, খাবার ও অতিরিক্ত লাগেজ ফি মিলিয়ে ভ্রমণকারীরা গড়ে শত শত ডলার অতিরিক্ত খরচ করছেন।
ট্রাভেল কোম্পানি Send My Bag পরিচালিত “New Australian Travel Index” জরিপ অনুযায়ী, একজন অস্ট্রেলিয়ান ভ্রমণকারী ফ্লাইট ধরার আগেই গড়ে প্রায় ১৭২ অস্ট্রেলিয়ান ডলার অতিরিক্ত ব্যয় করছেন। এই জরিপে ২০০০ জন অস্ট্রেলিয়ানের মতামত নেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানবন্দরে যাতায়াতের খরচ এখন বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়ায় অনেক যাত্রী ট্যাক্সি, রাইডশেয়ার, টোল ও জ্বালানি বাবদ ৫০ থেকে ১০০ ডলারের বেশি ব্যয় করছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি পার্কিং ফি এবং বিমানবন্দরের উচ্চমূল্যের খাবার ও পানীয়।
সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে অতিরিক্ত লাগেজ চার্জ নিয়ে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় এক-তৃতীয়াংশ যাত্রী জানিয়েছেন, তারা অপ্রত্যাশিত ব্যাগেজ ফি গুনতে বাধ্য হয়েছেন। ক্যারি-অন ও চেকড ব্যাগ মিলিয়ে অতিরিক্ত খরচ অনেক ক্ষেত্রেই ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
মেলবোর্নের দম্পতি ইওইন ও র্যাচেল কেলি জানান, তাদের সাশ্রয়ী বাজেটের বালি ভ্রমণ পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশার চেয়ে প্রায় ৫০০ ডলার বেশি ব্যয়বহুল হয়ে যায়। বিমানবন্দরে যাতায়াত, খাবার ও শেষ মুহূর্তের লাগেজ চার্জের পাশাপাশি সফরের সময় ক্ষতিগ্রস্ত স্যুটকেস বদলাতেও অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হয়।
অন্যদিকে সিডনির ব্যবসায়ী ওকসানা কোরিয়াকোভাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, কিছু এয়ারলাইন্স হ্যান্ডব্যাগ ও ল্যাপটপ ব্যাগকে একসঙ্গে ক্যারি-অন ওজনের মধ্যে গণনা করে—এ বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। ফলে বোর্ডিং গেটেই তাকে অতিরিক্ত ফি দিতে হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম দামের টিকিটের প্রতি যাত্রীদের আকর্ষণ বাড়লেও এসব সস্তা ভাড়ার সঙ্গে এখন কঠোর ব্যাগেজ নীতি ও নানা অতিরিক্ত চার্জ যুক্ত হচ্ছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও বাড়তি জ্বালানি দামের কারণে আন্তর্জাতিক বিমান ভাড়াও আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এয়ারলাইন্সগুলোর মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও জ্বালানি ব্যয়ের চাপ তাদের পরিচালন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে দেশীয় রুটেও। Qantas এবং Virgin Australia ইতোমধ্যে কিছু অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।
ভ্রমণ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বাড়িভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক তরুণ অস্ট্রেলিয়ান এখন বিদেশ সফর কমিয়ে দিচ্ছেন। অনেকে তুলনামূলক কম ব্যয়ের কারণে দেশীয় ভ্রমণের দিকে ঝুঁকছেন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ভ্রমণের আগে শুধু টিকিটের দাম নয়—লাগেজ নীতি, বিমানবন্দরে যাতায়াত, পার্কিং এবং অন্যান্য অতিরিক্ত খরচও হিসাবের মধ্যে রাখা জরুরি। না হলে “সস্তা” ফ্লাইট শেষ পর্যন্ত অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।










