Home খেলা মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে ভেঙে পড়েছেন বাঁধন, মাহির আর্তি—‘এভাবেই কি চলবে?’

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে ভেঙে পড়েছেন বাঁধন, মাহির আর্তি—‘এভাবেই কি চলবে?’

538
0

উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৭ জন। আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ৭৮ জন। দেশের এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় সাধারণ মানুষের মতো শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন বিনোদন জগতের তারকারাও। সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তাদের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ও প্রার্থনা।

এ ঘটনায় গভীরভাবে মুষড়ে পড়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “উত্তরার এই ঘটনা আমি খুব ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছি। আমি প্রতিদিন আমার মেয়েকে এই পথ দিয়েই স্কুলে নিয়ে যাই। তার স্কুল দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছিই। সৌভাগ্যবশত এখন গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলছে। কিন্তু এই ঘটনা আমাকে এতটাই মানসিকভাবে নাড়া দিয়েছে যে, আমি কী অনুভব করছি তা প্রকাশ করাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”

তিনি আরও লেখেন, “দূর থেকে দেখেই আমি এতটা ভেঙে পড়েছি। যারা সরাসরি এই বিভীষিকার মধ্যে পড়েছেন, তাদের যন্ত্রণা কীভাবে বয়ে বেড়াচ্ছে, তা কল্পনাও করতে পারছি না। ভাষায় প্রকাশ করার মতো কিছুই নেই আমার কাছে।”

অন্যদিকে ছোট পর্দার অভিনেত্রী সামিরা খান মাহিও এই ট্র্যাজেডিকে বাংলাদেশের জন্য এক দুঃসংবাদের ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করেন। সোমবার মধ্যরাতে দেওয়া এক পোস্টে মাহি লেখেন, “এই জুলাই যেন একের পর এক দুঃসংবাদের মাস হয়ে উঠেছে। কখনো আকাশ থেকে ভেঙে পড়ছে বিমান, কখনো নদী গিলছে প্রাণ, আবার কখনো রাস্তায় ঝরছে তরতাজা জীবন! প্রতিদিন সকালে ঘুম ভাঙে আতঙ্কের খবর নিয়ে। এভাবেই কি চলবে?”

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে মাহি আরও বলেন, “আমরা কি আর একটু নিরাপদ জীবন আশা করতে পারি না? আল্লাহ এই জাতিকে হেফাজত করুন। আমরা যেন শোক নয়, শান্তির খবর শেয়ার করতে পারি— এই আমাদের প্রার্থনা।”

মাইলস্টোন স্কুলের যেই ভবনে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়, সেটি ছিল ৫ নম্বর ভবন—‘প্রজেক্ট-২’ নামে পরিচিত। এতে দুটি তলা মিলে ছিল ১৬টি শ্রেণিকক্ষ। দুর্ঘটনার সময় প্রাথমিক ও জুনিয়র শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কোচিং করছিল। বিমানটি গিয়ে বিধ্বস্ত হয় ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাসরুমের সামনে, যেখানে অনেক শিশু শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।

এই ট্র্যাজেডির অভিঘাতে দেশের মনস্তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটে গভীর আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তারকাদের আবেগ ও আতঙ্ক কেবল ব্যক্তিগত নয়—বরং তা গোটা জাতির অসহায়তাই প্রতিফলিত করে। প্রশ্ন থেকে যায়—এভাবেই কি চলবে? নাকি এ ঘটনা হবে একটি টার্নিং পয়েন্ট, যেখান থেকে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ও জবাবদিহির নতুন অধ্যায় শুরু হবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here