Home খেলা ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বার্থেই কি সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প?

২০২৬ বিশ্বকাপের স্বার্থেই কি সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প?

171
0

মধ্যপ্রাচ্যে যখন ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ক্রমেই তীব্র হচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র একদিকে তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ করছে, অন্যদিকে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর বিষয় এড়িয়ে চলছে। এই কৌশলের পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে ২০২৬ সালে অনুষ্ঠেয় ফিফা বিশ্বকাপ।

মাত্র এক বছর পর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো মিলিতভাবে আয়োজন করবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরটি। এই আসর যাতে কোনো বৈশ্বিক অস্থিরতার কবলে না পড়ে, সে জন্যই ওয়াশিংটন সরাসরি যুদ্ধে না জড়ানোর কৌশল নিচ্ছে।

সম্প্রতি ইরান ৩০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যেগুলোর মধ্যে হাইপারসনিক প্রযুক্তিও রয়েছে। ইসরায়েল তাদের আয়রন ডোম, ডেভিড’স স্লিং এবং অ্যারো-থ্রি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে অনেকগুলো হামলা প্রতিহত করলেও দীর্ঘ মেয়াদে এই যুদ্ধ ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল করতে পারে।

দ্য ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, ইসরায়েল প্রতিরাতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ২৮৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে, যা দ্রুত অস্ত্র মজুদের ঘাটতি তৈরি করবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি জড়ানোর ঝুঁকি বাড়বে।

তবুও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি বরং অস্ত্র সরবরাহ, গোয়েন্দা সহযোগিতা ও আঞ্চলিক নজরদারির কৌশল অনুসরণ করছেন।

হোয়াইট হাউস আশঙ্কা করছে, সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে বিশ্বকাপ আয়োজন, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থান চরম হুমকির মুখে পড়বে।

বিশ্বকাপ আয়োজন থেকে উত্তর আমেরিকায় প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র একাই আয়োজন করবে ৬০টি ম্যাচ। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।

বিশ্বকাপকে ঘিরে রয়েছে বহুবিধ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থ। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, নিরাপত্তা, বিমা খরচ ও স্পন্সরদের অংশগ্রহণ হুমকিতে পড়তে পারে। এমনকি ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তাদের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে।

বিশ্বকাপ কেবল ক্রীড়ার আয়োজন নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বৈশ্বিক নেতৃত্ব প্রদর্শনের সুযোগ। রাজনৈতিক অস্থিরতা, কোভিড-পুনরুদ্ধার এবং বৈদেশিক নীতির নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এই আসরকে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ ব্র্যান্ডিংয়ের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেমস রলস্টন বলেন, ‘‘যুদ্ধ হলে বিশ্বকাপে ফুটবল নয়, টেলিভিশনে সেনাদের পদচারণাই বেশি দেখা যাবে।’’

ট্রাম্প প্রশাসন যেমন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে, তেমনি ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখেছে। ক্লাব বিশ্বকাপ উপলক্ষে জুভেন্টাস ফুটবল দলকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়ে ট্রাম্প শান্তির বার্তা দিয়েছেন। তবে ক্লাব বিশ্বকাপেও যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। অনেক গ্যালারিই ফাঁকা থাকছে, কারণ মানুষের মনোযোগ এখন যুদ্ধের দিকে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরানি ফরোয়ার্ড মেহদি তারেমিও ক্লাব বিশ্বকাপে ইন্টার মিলানের হয়ে খেলতে পারেননি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘‘এই মুহূর্তে শান্তি শুধু আদর্শিক নয়, অর্থনৈতিকভাবে জরুরি। ২০২৬ বিশ্বকাপ আমাদের ‘সফট পাওয়ার’—যা আমরা হারাতে চাই না।’’

সবমিলিয়ে, ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন দুটি যুদ্ধ—একটি কূটনৈতিক যুদ্ধ, অন্যটি বিশ্ব ফুটবলের বড় আয়োজন সফল করা। যুদ্ধে জড়ালে ক্রীড়াঙ্গনের বিজয় ম্লান হয়ে যেতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here