কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া সরকার সম্প্রতি বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সীমিত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা আবাসন সংকট মোকাবিলার একটি পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে, এই সিদ্ধান্তকে “ভুল দায় চাপানো” এবং “অবিবেচক” বলে সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন ইউনিয়ন, শিক্ষাবিদ ও অধিকারকর্মীরা।
কানাডার প্রেক্ষাপট
কানাডার অভিবাসন মন্ত্রী মার্ক মিলার জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সীমিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে, কারণ তাদের আগমনে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সেবার উপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি অতিসরলীকৃত ও বিভ্রান্তিকর দৃষ্টিভঙ্গি। তারা উল্লেখ করেন, কানাডার আবাসন সংকট বহু দশকের পুরনো এবং এর পেছনে রয়েছে সরকারী নীতিমালা, জমি ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা বরং এই সংকটের শিকার, যারা উচ্চ ভাড়া ও অপ্রতুল আবাসনের কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
অস্ট্রেলিয়ার পরিস্থিতি
অস্ট্রেলিয়ার সরকারও ২০২৫ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা করছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রাজস্ব হ্রাস পাবে এবং প্রায় ২২,০০০ চাকরি হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপকে “অভূতপূর্ব হস্তক্ষেপ” ও “অর্থনৈতিক ধ্বংসাত্মক” বলে অভিহিত করেছেন। তারা বলেন, এটি বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন একটি সিদ্ধান্ত, যা আবাসন সংকটের মূল কারণগুলো উপেক্ষা করছে।
সমালোচনার মুখে সরকার
দুই দেশেই সরকারগুলোর এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বাস্তব সমস্যার সমাধান না করে বরং বিদেশি শিক্ষার্থীদের দায়ী করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ অভিবাসন ও বৈচিত্র্যপূর্ণ সমাজের প্রতি নেতিবাচক বার্তা দেয় এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণকে উৎসাহিত করে।
উপসংহার
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা কেবলমাত্র শিক্ষার জন্যই নয়, বরং অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবদানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সংখ্যা সীমিত করার পরিবর্তে, সরকারগুলোর উচিত আবাসন সংকটের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এতে করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সমাজ গঠন সম্ভব হবে।










