যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে নতুন অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, কারণ বিনিয়োগকারীরা এখন নজর রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য, প্রযুক্তি খাতের আয় প্রতিবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন বৈঠকের ওপর।
বিশ্লেষকদের মতে, তিনটি বড় বিষয় আগামী ট্রেডিং সেশনে বাজারের দিক নির্ধারণ করতে পারে— এপ্রিলের Retail Sales রিপোর্ট, Applied Materials-এর আয় প্রতিবেদন এবং সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র-চীন শীর্ষ বৈঠকের অগ্রগতি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তিনটি উপাদান প্রযুক্তি, ভোক্তা এবং সামগ্রিক শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ওঠানামা সৃষ্টি করতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্যগুলোর একটি হলো এপ্রিল মাসের Retail Sales রিপোর্ট, যা বাজার খোলার আগেই প্রকাশিত হওয়ার কথা।
এই তথ্যকে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা ব্যয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়। কারণ আমেরিকার অর্থনীতির বড় অংশই নির্ভর করে ভোক্তাদের ব্যয়ের ওপর।
বিনিয়োগকারীরা এখন বোঝার চেষ্টা করছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বাড়তি সুদের হার সত্ত্বেও মার্কিন ভোক্তারা আগের মতো ব্যয় অব্যাহত রেখেছেন কি না।
যদি খুচরা বিক্রির তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী আসে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এখনো স্থিতিশীল রয়েছে— এমন আস্থা বাড়তে পারে।
তবে একই সঙ্গে এতে Federal Reserve-এর নিকট ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।
অন্যদিকে দুর্বল বিক্রির তথ্য প্রকাশ পেলে দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা বিশেষভাবে নজর রাখছেন বড় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান যেমন Home Depot এবং Walmart-এর ওপর, কারণ তাদের ব্যবসার অবস্থা ভোক্তা আচরণের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়।
এদিকে বাজার বন্ধ হওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ যাবে Applied Materials-এর আয় প্রতিবেদনের দিকে।
এই প্রতিষ্ঠানটি বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা বিশ্বের বড় চিপ নির্মাতাদের জন্য উৎপাদন যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে TSMC, Samsung Electronics এবং Intel।
বিশ্লেষকদের মতে, Applied Materials-এর আয় ও ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস পুরো বৈশ্বিক চিপ শিল্পের বিনিয়োগ প্রবণতার আগাম সংকেত হিসেবে দেখা হয়।
বিনিয়োগকারীরা বিশেষভাবে নজর দেবেন এআই অবকাঠামো, মেমোরি চিপ এবং বড় ফাউন্ড্রি বিনিয়োগ নিয়ে কোম্পানির মন্তব্যের দিকে।
যদি প্রতিষ্ঠানটি ইতিবাচক পূর্বাভাস দেয়, তাহলে সেমিকন্ডাক্টর ও এআই সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোর প্রতি আস্থা আরও বাড়তে পারে।
বিশেষ করে NVIDIA এবং Advanced Micro Devices-এর মতো কোম্পানিগুলো ইতিবাচক প্রভাব পেতে পারে।
অন্যদিকে দুর্বল পূর্বাভাস পুরো চিপ খাতকে চাপে ফেলতে পারে।
এদিকে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্র-চীন শীর্ষ বৈঠকের অগ্রগতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
বৈঠকে মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত প্রযুক্তি, চিপ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে এআই নেতৃত্ব এবং সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি নিয়ে উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরেই বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈঠক থেকে আসা যেকোনো প্রযুক্তি-সংক্রান্ত খবর দ্রুত বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি ও চীনা প্রযুক্তি শেয়ারগুলোতে।
এক্ষেত্রে Alibaba Group-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নজরে রাখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এআই ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বর্তমানে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সহযোগিতা সংক্রান্ত যেকোনো নীতিগত পরিবর্তনের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
এছাড়া বন্ডের সুদহার, প্রবৃদ্ধিনির্ভর শেয়ার এবং ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ সুদনীতি সম্পর্কিত প্রত্যাশাও বাজার প্রতিক্রিয়ায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বাজার আগে থেকেই অস্থির থাকায়, অর্থনৈতিক তথ্য ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক খবরের কারণে আকস্মিক ওঠানামার ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোক্তা ব্যয়ের তথ্য, চিপ শিল্পের আয় এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন আলোচনা মিলিয়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে এটি ওয়াল স্ট্রিটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ট্রেডিং সেশনগুলোর একটিতে পরিণত হতে পারে।










