Home প্রযুক্তি এআই স্মার্ট চশমা নিয়ে বাড়ছে গোপন নজরদারির ভয়, বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্ক

এআই স্মার্ট চশমা নিয়ে বাড়ছে গোপন নজরদারির ভয়, বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্ক

22
0

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত স্মার্ট চশমার জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে, তবে একই সঙ্গে গোপন নজরদারি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং সম্মতির বিষয় নিয়ে তীব্র উদ্বেগও তৈরি হচ্ছে।

বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে আলোচিত পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে Ray-Ban Meta Smart Glasses, যা Meta এবং Ray-Ban যৌথভাবে তৈরি করেছে।

এই স্মার্ট চশমায় ছোট ক্যামেরা, বিল্ট-ইন স্পিকার এবং এআইভিত্তিক বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু বাইরে থেকে দেখতে এটি সাধারণ চশমার মতোই। আর সেখানেই তৈরি হচ্ছে সবচেয়ে বড় বিতর্ক।

সমালোচকদের মতে, ক্যামেরাগুলো এতটাই অদৃশ্যভাবে বসানো যে আশপাশের মানুষ বুঝতেই পারেন না কখন তাদের ভিডিও করা হচ্ছে।

চশমা ব্যবহারকারীরা ভয়েস কমান্ড বা ফ্রেম স্পর্শ করে ছবি তুলতে, ভিডিও করতে, গান শুনতে এবং এআই ফিচার ব্যবহার করতে পারেন।

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোপনে ধারণ করা ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনা বাড়তে থাকায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ তীব্র হয়েছে।

বিশেষ করে অনেক নারী অভিযোগ করেছেন, সৈকত, দোকান বা রাস্তায় তাদের অজান্তে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। পরে সেই ভিডিও অনলাইনে আপলোড করে নানা ধরনের হয়রানি ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যও করা হয়েছে।

কিছু ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, ভিডিওগুলো ভাইরাল হওয়ার আগে তারা জানতেই পারেননি যে তাদের গোপনে ধারণ করা হয়েছিল।

অনেক দেশে জনসম্মুখে ভিডিও ধারণ আইনত বৈধ হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আইনি প্রতিকার পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী স্মার্ট চশমার বাজারে বর্তমানে মেটার আধিপত্য সবচেয়ে বেশি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যেই ৭ মিলিয়নের বেশি স্মার্ট চশমা বিক্রি করেছে।

Mark Zuckerberg সম্প্রতি এই ডিভাইসকে ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ভোক্তা প্রযুক্তি পণ্যের একটি বলে উল্লেখ করেছেন।

তবে প্রযুক্তিটির জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে নতুন বিতর্কও সামনে আসছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেটার জন্য কাজ করা কিছু সাবেক কনটেন্ট রিভিউয়ার দাবি করেছেন, এআই প্রশিক্ষণের জন্য স্মার্ট চশমায় ধারণ করা ভিডিও পর্যালোচনা করতে গিয়ে তারা ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল দৃশ্যের মুখোমুখি হয়েছেন।

এই অভিযোগের পর কিছু ব্যবহারকারী আইনি পদক্ষেপও নিয়েছেন। তাদের দাবি, তারা জানতেন না যে তাদের ধারণ করা ভিডিও মানুষ দ্বারা পর্যালোচনা করা হতে পারে।

মেটা জানিয়েছে, এসব বিষয় তাদের ব্যবহারের শর্তাবলীতে উল্লেখ রয়েছে এবং প্রযুক্তিটি সঠিকভাবে ব্যবহার করার দায়িত্ব ব্যবহারকারীদেরই।

স্মার্ট চশমার দ্রুত জনপ্রিয়তা অন্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই বাজারে প্রবেশে উৎসাহিত করছে।

Apple নাকি নিজেদের এআইচালিত স্মার্ট চশমা তৈরি করছে বলে খবর রয়েছে। অন্যদিকে Google আবারও স্মার্ট গ্লাস বাজারে ফিরতে প্রস্তুতি নিচ্ছে, যদিও তাদের আগের Google Glass প্রকল্পটি ব্যর্থ হয়েছিল।

Snap-ও নতুন সংস্করণের স্মার্ট চশমা আনার পরিকল্পনা করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের স্মার্ট চশমাগুলোতে এআইয়ের পাশাপাশি অগমেন্টেড রিয়েলিটি প্রযুক্তিও যুক্ত হবে। এতে সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, হাসপাতাল, আদালত, স্কুল, সিনেমা হল কিংবা গণপরিবহনের মতো সংবেদনশীল স্থানে ক্যামেরাযুক্ত চশমা ব্যবহার গোপনীয়তা রক্ষার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আরও বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভবিষ্যতে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ভবিষ্যতের স্মার্ট চশমা হয়তো রাস্তায় থাকা অপরিচিত মানুষকে তাৎক্ষণিক শনাক্ত করতে পারবে, একই সঙ্গে তাদের ভিডিওও ধারণ করবে।

গোপনীয়তা অধিকারকর্মীদের মতে, এমন প্রযুক্তি মানুষের জনসম্মুখে আচরণ করার ধরণই বদলে দিতে পারে।

তবে সমর্থকদের দাবি, স্মার্ট চশমা দৈনন্দিন জীবনে অনেক সুবিধাও দিচ্ছে। অনেক ব্যবহারকারী এগুলো মূলত হ্যান্ডস-ফ্রি কল, গান শোনা, নেভিগেশন বা দ্রুত ছবি তোলার জন্য ব্যবহার করেন।

তারপরও সমালোচকদের মতে, “ওয়্যারেবল নজরদারি প্রযুক্তি” ঘিরে সামাজিক প্রতিক্রিয়া এখনো কেবল শুরু হয়েছে।

সাবেক মেটা এআই গবেষক David Harris স্মার্ট চশমাকে “গুরুতর গোপনীয়তা ঝুঁকি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তার মতে, মানুষ ধীরে ধীরে এমন প্রযুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে, যা ব্যক্তিগত সুবিধা আর গোপন নজরদারির সীমারেখা মুছে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে আরও বেশি কোম্পানি প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে এআই স্মার্ট চশমা আগামী কয়েক বছরের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি ও গোপনীয়তা বিতর্কগুলোর একটিতে পরিণত হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here