Home পলিসি বাজেটের স্বস্তি সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ায় আয়করের চাপ ৩০ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা

বাজেটের স্বস্তি সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ায় আয়করের চাপ ৩০ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা

22
0

অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬ সালের ফেডারেল বাজেটে জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে নতুন ২৫০ ডলারের কর ছাড় ঘোষণা করা হলেও, অর্থনীতিবিদ ও ট্রেজারি বিশ্লেষকদের মতে দেশটির আয়করের চাপ আগামী বছরগুলোতে ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত আয়কর থেকে সরকারের রাজস্ব দ্রুত বাড়ার প্রধান কারণ হচ্ছে তথাকথিত “ব্র্যাকেট ক্রিপ”। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি ও মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় কর্মীদের আয় ধীরে ধীরে উচ্চ কর স্তরে চলে যাচ্ছে, যদিও বাস্তবে তাদের ক্রয়ক্ষমতা তেমন বাড়ছে না।

ফলে অনেক অস্ট্রেলিয়ান কর্মী প্রকৃত অর্থে ধনী না হয়েও আগের তুলনায় বেশি কর দিতে বাধ্য হচ্ছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রক্রিয়াটি ধীরে ধীরে সাধারণ পরিবারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

ট্রেজারার Jim Chalmers বাজেটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মীদের জন্য এককালীন ২৫০ ডলারের কর ছাড় ঘোষণা করেছেন। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এর লক্ষ্য হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বাড়তি গৃহঋণের কিস্তি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যে পরিবারগুলোকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়া।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই কর ছাড় তুলনামূলকভাবে খুবই ছোট এবং দীর্ঘমেয়াদে সরকারের আয়কর সংগ্রহ বৃদ্ধির বিপরীতে এর প্রভাব সীমিত থাকবে।

বাজেট পূর্বাভাস অনুযায়ী, অর্থনীতির অনুপাতে ব্যক্তিগত আয়কর থেকে সরকারের রাজস্ব ১৯৯০-এর দশকের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, স্বাস্থ্যসেবা, বয়স্কদের পরিচর্যা, National Disability Insurance Scheme (NDIS), প্রতিরক্ষা এবং অবকাঠামো খাতে ব্যয় মেটাতে সরকার এখন ক্রমেই আয়করের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।

কিছু আর্থিক বিশেষজ্ঞ সরকারের এই অবস্থানকে সমর্থন করছেন। তাদের মতে, দ্রুত বাড়তে থাকা সরকারি ঋণ এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনতে শক্তিশালী কর রাজস্ব জরুরি। তারা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে বাজেট স্থিতিশীল রাখতে কর সংগ্রহ বাড়ানো ছাড়া সরকারের সামনে খুব বেশি বিকল্প নেই।

তবে সমালোচকরা সতর্ক করে বলেছেন, ব্যক্তিগত আয়করের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ কমাতে পারে, ভোক্তা ব্যয় দুর্বল করতে পারে এবং ইতোমধ্যেই চাপে থাকা পরিবারগুলোর আর্থিক অবস্থাকে আরও খারাপ করতে পারে।

ব্যবসায়ী সংগঠন ও কর বিশেষজ্ঞরা আরও বিস্তৃত কর সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আয়করের ওপর নির্ভর না করে Goods and Services Tax (GST), অঙ্গরাজ্যভিত্তিক কর এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির নীতিগুলোতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার কর ব্যবস্থা ভারসাম্যহীন ও অদক্ষ হয়ে উঠেছে, ফলে এখন কাঠামোগত সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে।

এই বিতর্ক রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে, কারণ সাধারণ মানুষ এখনও উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, ব্যয়বহুল আবাসন বাজার এবং উচ্চ সুদের চাপের মধ্যে রয়েছে।

সমালোচকদের মতে, বাজেটে দেওয়া স্বল্পমেয়াদি সহায়তা সাময়িক স্বস্তি দিলেও ব্র্যাকেট ক্রিপ ও স্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ব্যবহারযোগ্য আয় যে ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে, সেটির দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এতে নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি Anthony Albanese সরকারের জন্য একটি কঠিন ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একদিকে সরকারকে বাজেট ঘাটতি ও সরকারি অর্থনীতি সামাল দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত করের চাপ যেন ভোক্তা ব্যয় ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও দুর্বল না করে, সেই চাপও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here