Home পলিসি NDIS জালিয়াতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ, বিলিয়ন ডলার ক্ষতির বোঝা করদাতাদের ওপর

NDIS জালিয়াতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ, বিলিয়ন ডলার ক্ষতির বোঝা করদাতাদের ওপর

24
0

অস্ট্রেলিয়ার National Disability Insurance Scheme (NDIS) নিয়ে নতুন করে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ব্যাপক জালিয়াতি, অপচয় এবং দুর্বল নজরদারির অভিযোগে এখন এই প্রকল্পের কার্যকারিতা ও আর্থিক স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, দুর্বল নিয়ন্ত্রণের সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ী, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র এবং অনৈতিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছে — যার পুরো বোঝা শেষ পর্যন্ত বহন করছেন সাধারণ করদাতারা।

NDIS মূলত গুরুতর প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত অস্ট্রেলিয়ানদের সহায়তার জন্য চালু করা হয়েছিল এবং এটি দেশটির অন্যতম বড় সামাজিক সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সমালোচকদের মতে, দ্রুত সম্প্রসারণ এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে প্রকল্পটি এখন বড় আকারের অপব্যবহারের ঝুঁকিতে পড়েছে।

সরকারি তথ্য ও দুর্নীতি তদন্তকারীদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার হারিয়ে যাচ্ছে জাল বিল, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ভুয়া ইনভয়েস, পরিচয় চুরি এবং অংশগ্রহণকারীদের পরিকল্পনার অপব্যবহারের মাধ্যমে। সংসদীয় তদন্তে উপস্থাপিত অভ্যন্তরীণ হিসাব বলছে, NDIS-এর মোট অর্থপ্রদানের প্রায় ৮ শতাংশে জালিয়াতি, অনিয়ম বা অযৌক্তিক দাবি থাকতে পারে।

তদন্তে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন স্থানে এমন বহু উদাহরণ পাওয়া গেছে যেখানে সেবা প্রদানকারীরা বাস্তবে কোনো সেবা না দিয়েই বিল করেছে, সরকারি ছুটি বা সপ্তাহান্তে কাজ না করেও অর্থ দাবি করেছে, এমনকি দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশগ্রহণকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে সেবা প্রদানকারী পরিবর্তন করিয়েছে।

কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে যে অংশগ্রহণকারীদের বিচ্ছিন্ন করে রাখা, আর্থিকভাবে শোষণ করা এবং তাদের সহায়তা পরিকল্পনাকে ব্যক্তিগত লাভের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

সমালোচকদের বড় অভিযোগ হলো, NDIS খুব দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করা হয়নি। অনেক সেবা প্রদানকারী নিবন্ধন ছাড়াই কাজ করেছে এবং অনেক অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নথিপত্র ছাড়াই দাবি অনুমোদন হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী Mark Butler সম্প্রতি স্বীকার করেছেন যে এই প্রকল্পটি “প্রতারক ও দুর্নীতিবাজদের জন্য সহজ লক্ষ্য” হয়ে উঠেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এখন বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে।

Anthony Albanese সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে যোগ্যতার নিয়ম কঠোর করা, সেবা প্রদানকারীদের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ, স্বাধীন মূল্যায়ন বাড়ানো এবং অর্থপ্রদানের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।

এই সংস্কারের লক্ষ্য হলো NDIS ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরা। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দশকের শেষ নাগাদ এই প্রকল্পের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে এই ইস্যু রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। অনেক প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মী আশঙ্কা করছেন, ব্যাপক ব্যয় কমানোর পদক্ষেপ বা কঠোর যোগ্যতার শর্ত প্রকৃত সুবিধাভোগীদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

সংস্কারের সমালোচকরা বলছেন, সরকার যদি অতিরিক্ত কড়াকড়ি করে, তাহলে এমন একটি প্রকল্প দুর্বল হয়ে পড়তে পারে যা ইতোমধ্যেই লাখো প্রতিবন্ধী অস্ট্রেলিয়ানের জীবন বদলে দিয়েছে।

অন্যদিকে সংস্কারপন্থীরা যুক্তি দিচ্ছেন, করদাতাদের অর্থের দৃশ্যমান অপচয় এবং জালিয়াতির কারণে NDIS-এর প্রতি জনসাধারণের আস্থা কমে যাচ্ছে। তাদের মতে, প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকা নিশ্চিত করতে হলে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা, অপচয় কমানো এবং প্রকৃত প্রয়োজনীদের কাছে অর্থ পৌঁছানো নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশ্লেষকদের মতে, NDIS এখন অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি বড় নীতিগত পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে—কীভাবে একদিকে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা যায়, অন্যদিকে করদাতাদের অর্থ জালিয়াতি ও অপব্যবহার থেকে রক্ষা করা যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here