সিডনির আলোচিত আকাশচুম্বী ভবন প্রকল্প Halo Tower শেষ মুহূর্তে বড় আর্থিক সংকট থেকে রক্ষা পেয়েছে। ডেভেলপার James Milligan ঋণদাতাদের সঙ্গে একটি পুনর্গঠন চুক্তিতে পৌঁছানোর পর প্রকল্পটি আবার এগিয়ে যাওয়ার পথ পেয়েছে।
৫৫ তলা বিশিষ্ট এই মিশ্র-ব্যবহারভিত্তিক প্রকল্পটি সিডনির কেন্দ্রস্থলে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং এতে আংশিকভাবে বিনিয়োগ করেছে Cbus Property।
তবে চলতি বছরের শুরুতে মিলিগানের ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ প্রশাসনিক সংকটে পড়ে যায়। নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি, ঠিকাদার ও অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিরোধ এবং আর্থিক চাপে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসকরা একটি “ডিড অব কোম্পানি অ্যারেঞ্জমেন্ট” (DOCA) চুক্তি নিয়ে আসেন, যার মাধ্যমে প্রকল্পটি চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে এই সমঝোতার বড় মূল্য দিতে হচ্ছে অসুরক্ষিত ঋণদাতা, ঠিকাদার ও সরবরাহকারীদের। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের পাওনা অর্থের খুব সামান্য অংশই ফেরত পাবে।
যদিও কিছু অসুরক্ষিত ঋণদাতা এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছিল, তবুও শেষ পর্যন্ত পর্যাপ্ত সমর্থন পাওয়ায় প্রকল্পটি লিকুইডেশনে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়।
হ্যালো টাওয়ার সম্পন্ন হলে এতে আধুনিক অফিস স্পেস, বিলাসবহুল হোটেল, রেস্টুরেন্ট, খুচরা বাণিজ্যিক এলাকা এবং উচ্চমানের আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট থাকবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি বর্তমানে সিডনির সবচেয়ে আলোচিত সংকটাপন্ন বাণিজ্যিক সম্পত্তি প্রকল্পগুলোর একটি। অস্ট্রেলিয়াজুড়ে সুদের হার বৃদ্ধি, অফিস বাজারের দুর্বলতা এবং উন্নয়ন অর্থায়নের কড়াকড়ির কারণে বহু ডেভেলপার বড় চাপের মুখে পড়েছেন।
কোভিড-পরবর্তী সময়ে নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি, শ্রমিক সংকট এবং বাণিজ্যিক সম্পত্তির মূল্য কমে যাওয়াও এই সংকটকে আরও জটিল করেছে।
পুনর্গঠন পরিকল্পনার সমর্থকরা বলছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে বহু কর্মসংস্থান রক্ষা পেয়েছে, সম্পদ কমদামে বিক্রির ঝুঁকি এড়ানো গেছে এবং সিডনির কেন্দ্রীয় ব্যবসা জেলায় বড় একটি উন্নয়ন প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে।
তবে সমালোচকদের মতে, এই ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে বড় নির্মাণ প্রকল্প ভেঙে পড়লে ঠিকাদার ও অসুরক্ষিত ঋণদাতারা কত বড় আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়েন।
ডেভেলপাররা আশা করছেন, বাজারের বর্তমান অস্থিরতা কাটিয়ে দীর্ঘমেয়াদে সিডনির উচ্চমানের সিবিডি সম্পত্তির চাহিদা বাড়বে এবং হ্যালো টাওয়ার ভবিষ্যতে শহরের অন্যতম প্রিমিয়াম বহুমুখী ভবনে পরিণত হবে।











