Home এশিয়া পেসিফিক ভারতীয় ভিসা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে নতুন দায়িত্বে স্কট মরিসন, অভিবাসন নীতি নিয়েও নতুন...

ভারতীয় ভিসা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে নতুন দায়িত্বে স্কট মরিসন, অভিবাসন নীতি নিয়েও নতুন বিতর্ক

20
0

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন ভারতের শীর্ষ ভিসা ও কনস্যুলার প্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিএলএস ইন্টারন্যাশনাল (BLS International)-এর গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার হিসেবে যোগ দিয়েছেন। এমন এক সময়ে এই নিয়োগের ঘোষণা এলো, যখন অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী লিবারেল পার্টি অভিবাসন নীতি কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

ভারতের নয়াদিল্লিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বিএলএস ইন্টারন্যাশনাল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্য ভিসা, পাসপোর্ট, কনস্যুলার, বায়োমেট্রিক, ই-ভিসা এবং ডিজিটাল সরকারি সেবা পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, স্কট মরিসনের অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সরকারি নীতিনির্ধারণে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাদের বৈশ্বিক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতিষ্ঠানের বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারি দায়িত্ব পালনের আগে এবং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়েও মরিসন অর্থনীতি, আর্থিক নীতি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। করপোরেট বোর্ড, বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক পরামর্শক সংস্থার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।

বিএলএস আরও উল্লেখ করেছে, মরিসন কোয়াড (Quad) জোটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের একজন ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি। তাদের বিশ্বাস, মরিসনের কৌশলগত পরামর্শ আন্তর্জাতিক নাগরিকসেবা, ডিজিটাল সরকারব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক ভ্রমণ ব্যবস্থাপনায় নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

নিজের নতুন দায়িত্ব নিয়ে স্কট মরিসন বলেন, বিএলএস ইন্টারন্যাশনাল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারের বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে আগ্রহী।

মরিসনের ভাষায়, ভবিষ্যতের সরকারি সেবা আরও উদ্ভাবনী, নিরাপদ, দক্ষ এবং ব্যবহারবান্ধব হওয়া প্রয়োজন। সরকার ও বেসরকারি অংশীদারদের যৌথ উদ্যোগেই সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

২০২২ সালের নির্বাচনে কোয়ালিশন সরকারের পরাজয়ের পর ২০২৪ সালে সংসদ সদস্যের পদ ছাড়েন স্কট মরিসন। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক American Global Strategies-এর ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং নিজের আত্মজীবনীও প্রকাশ করেন।

এদিকে তাঁর নতুন এই নিয়োগ এমন সময়ে এসেছে, যখন অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে অভিবাসন ইস্যু আবারও আলোচনায়। লিবারেল পার্টির নেতা অ্যাঙ্গাস টেলর সম্প্রতি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে অভিবাসন নীতিকে আবাসন নির্মাণের সঙ্গে সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে, ওয়ান নেশন দলের নেত্রী পলিন হ্যানসন অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক নীতি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার পর বিষয়টি আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে। যদিও অ্যাঙ্গাস টেলর বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া বিভিন্ন জাতি ও ধর্মের মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, তবে সবাইকে দেশের মৌলিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্কট মরিসনের নতুন আন্তর্জাতিক করপোরেট দায়িত্ব যেমন তাঁর বৈশ্বিক প্রভাবকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে, তেমনি অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন ও বহুসাংস্কৃতিক নীতি নিয়ে চলমান বিতর্কও আগামী দিনে আরও জোরালো হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here