অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে অ্যান্থনি আলবানিজ সরকার। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বয়সসীমা কার্যকর করতে ব্যর্থ হবে, তাদের সর্বোচ্চ ৯৯ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
বর্তমানে এই আইনের আওতায় সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ ৪৯.৫ মিলিয়ন ডলার। তবে সরকার জানিয়েছে, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখনো আইন পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তাই জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ করার পাশাপাশি অনলাইন নিরাপত্তা তদারককারী সংস্থার ক্ষমতাও আরও বাড়ানো হচ্ছে।
সরকারের তথ্যমতে, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ৫০ লাখেরও বেশি অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবুও সরকার মনে করছে, এখনও অনেক শিশু বিভিন্ন উপায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, অস্ট্রেলিয়া শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বের অন্যতম কঠোর আইন বাস্তবায়ন করছে। তবে তাঁর অভিযোগ, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে যথেষ্ট আন্তরিক নয়।
তিনি বলেন, শিশুদের নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কিন্তু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। তাঁর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনও অনেক অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারী সক্রিয় রয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, শুধু জরিমানাই নয়, eSafety Commissioner-কে আরও শক্তিশালী আইনি ক্ষমতা দেওয়া হবে। এর ফলে কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান যদি দাবি করে যে তারা বয়সসীমা কার্যকর করছে, তবে সেই দাবির পক্ষে প্রমাণপত্র ও তথ্য জমা দিতে বাধ্য থাকবে। প্রয়োজনে কমিশনার সরাসরি এসব তথ্য তলব করতে পারবেন।
সরকারের বিশ্বাস, কঠোর জরিমানা এবং কঠিন নজরদারির ফলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো শিশুদের বয়স যাচাই ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার ডিজিটাল পরিবেশ শিশু-কিশোরদের জন্য আরও নিরাপদ হয়ে উঠবে বলে আশা করছে সরকার।











