Home বিনোদন এক্সে বিতর্কিত সিনেমা শেয়ার করে সমালোচনার মুখে ইলন মাস্ক

এক্সে বিতর্কিত সিনেমা শেয়ার করে সমালোচনার মুখে ইলন মাস্ক

27
0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ স্বল্প সময়ের জন্য বিতর্কিত অ্যাকশন চলচ্চিত্র Citizen Vigilante প্রকাশ করায় নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন Elon Musk। ঘটনাটি অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ, সহিংস চলচ্চিত্রের প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্ব নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলচ্চিত্রটি প্রায় ৪৮ ঘণ্টা X প্ল্যাটফর্মে দেখা যাওয়ার পর সরিয়ে ফেলা হয়। এই সময়ের মধ্যে অসংখ্য ব্যবহারকারী সিনেমাটির লিংক ও পোস্ট পুনরায় শেয়ার করায় এটি দ্রুত বিস্তৃত দর্শকের কাছে পৌঁছে যায়।

Citizen Vigilante চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন Uwe Boll এবং এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন Armie Hammer। গল্পে দেখানো হয়েছে, ক্রোয়েশিয়ায় বসবাসরত এক ধনী মার্কিন ব্যবসায়ী নিজ উদ্যোগে সহিংস অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি জনমতের কাছে যেমন নায়ক হিসেবে পরিচিতি পান, তেমনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে পলাতক আসামিতেও পরিণত হন। চলচ্চিত্রটিতে বিচার, আত্মবিচার এবং জনমতের মতো বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

বিতর্কের আরেকটি কারণ হলো, জার্মানির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চলচ্চিত্রটির জন্য বয়সভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস (Age Classification) অনুমোদন দেয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে দেশটিতে সিনেমাটির সাধারণ প্রদর্শন কার্যত সীমিত হয়ে পড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিদ্ধান্তটির পেছনে অতিরিক্ত সহিংসতার দৃশ্য নিয়ে উদ্বেগ কাজ করেছে।

চলচ্চিত্রটির পরিচালক উভে বল ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছেন যে Citizen Vigilante 2 নির্মাণাধীন রয়েছে এবং ২০২৭ সালে এটি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে দ্বিতীয় কিস্তিতে আর্মি হ্যামার অভিনয় করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

এদিকে, ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলচ্চিত্রটি নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি সিনেমাটির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা এবং সম্ভাব্য সিক্যুয়েল নিয়ে কিছু পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানান। তবে তাঁর এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে অনেক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের বিতর্কিত ও সহিংস কনটেন্ট প্রচার করা কতটা উপযুক্ত।

চলচ্চিত্রটি আর্মি হ্যামারের অভিনয়জীবনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২১ সালে তাঁর বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তিনি বড় হলিউড প্রযোজনাগুলো থেকে সরে দাঁড়ান। হ্যামার অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। ২০২৩ সালে সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর Los Angeles County District Attorney’s Office জানায় যে, তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হবে না।

সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে হ্যামার বলেন, এই চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়া তাঁর জন্য দীর্ঘ বিরতির পর অভিনয়জগতে ফিরে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য বিভক্ত। কেউ চলচ্চিত্রটির গল্প, উপস্থাপনা ও সহিংসতার মাত্রার সমালোচনা করেছেন, আবার অন্যরা এর অ্যাকশন দৃশ্য ও ব্যতিক্রমী নির্মাণশৈলীর প্রশংসা করেছেন। দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক বলে বিভিন্ন পর্যালোচনায় দেখা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট প্রকাশের স্বাধীনতা, প্ল্যাটফর্মের দায়বদ্ধতা এবং বিতর্কিত বিনোদনমূলক কনটেন্টের বিস্তার—এই তিনটি বিষয় আগামী দিনেও বৈশ্বিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here