ক্যানবেরা: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী Anthony Albanese আবাসন বাজারে ন্যায্যতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রস্তাবিত মূলধনী মুনাফা কর (Capital Gains Tax–CGT) সংস্কারের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশের আবাসন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে ভারসাম্যহীন অবস্থায় রয়েছে এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য নিজস্ব বাড়ি কেনার সুযোগ নিশ্চিত করতে কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি হয়ে পড়েছে।
এবিসির 7.30 অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সবাই স্বীকার করছে যে অস্ট্রেলিয়ার আবাসন ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। তাই এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতেই হয়েছে।”
সরকারের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, আগামী বছরের ১ জুলাই থেকে মূলধনী মুনাফা করের বিদ্যমান ৫০ শতাংশ কর-ছাড় (CGT discount) ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হবে। নতুন নিয়মে ভবিষ্যতে অর্জিত মূলধনী মুনাফার ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির (ইনফ্লেশন) সঙ্গে সমন্বয় করা ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে কর নির্ধারণ করা হবে এবং অন্তত ৩০ শতাংশ কর প্রযোজ্য হবে।
তবে সরকার স্পষ্ট করেছে, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার আগে অর্জিত মুনাফার ক্ষেত্রে আগের নিয়মই বহাল থাকবে। পাশাপাশি নতুন আবাসন নির্মাণে বিনিয়োগকারীরা আগের ৫০ শতাংশ কর-ছাড় সুবিধা বজায় রাখতে পারবেন, যাতে নতুন বাড়ি নির্মাণে বিনিয়োগ উৎসাহিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য আবাসন বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা নয়, বরং প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহী সাধারণ ক্রেতাদের জন্য প্রতিযোগিতা কিছুটা সহজ করা।
তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক নিলাম বাজারের ফলাফল দেখাচ্ছে যে অনেক ক্ষেত্রে প্রথমবারের ক্রেতারা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে অতিরিক্ত মূল্য প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন না। তাঁর মতে, এটি আবাসন বাজারকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার একটি ইতিবাচক লক্ষণ।
এদিকে নতুন তথ্য অনুযায়ী, সিডনিতে বাড়ির নিলাম সফলভাবে বিক্রির হার (Auction Clearance Rate) ২০২০ সালের এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। একইভাবে মেলবোর্নেও এই হার কোভিড-১৯ লকডাউনের সময়কার নিম্নস্তরের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
সরকারি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই কর সংস্কারের ফলে বাড়ির দাম হঠাৎ কমে যাবে না। বরং মূল্যবৃদ্ধির গতি কিছুটা ধীর হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার ট্রেজারির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতেও আবাসনের দাম বাড়বে, তবে আগের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম গতিতে।
বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্বাভাসেও ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। কমনওয়েলথ ব্যাংক চলতি বছরে আবাসনের মূল্য প্রায় স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনার কথা বলেছে। অন্যদিকে ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংক (NAB) প্রধান শহরগুলোতে গড়ে প্রায় ২ শতাংশ মূল্যহ্রাসের পূর্বাভাস দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৯ সালের পর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ির দাম প্রায় ৪০০ শতাংশ বেড়েছে, যা একই সময়ে মজুরি বৃদ্ধির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। তাঁর মতে, এই বৈষম্যের কারণে তরুণ প্রজন্মের জন্য নিজস্ব বাড়ি কেনা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, তিনি এমন একটি সমাজ দেখতে চান না যেখানে আগের প্রজন্ম সহজেই বাড়ির মালিক হতে পারলেও বর্তমান তরুণরা সেই স্বপ্ন ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এ কারণেই আবাসন বাজারে প্রজন্মগত বৈষম্য কমাতে সরকারের এই সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সমালোচকদের উদ্বেগের জবাবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, সরকার বাড়ির মালিকদের সম্পদের মূল্য কমিয়ে দিতে চায় না। বরং বিনিয়োগকারী ও প্রকৃত আবাসন ক্রেতাদের মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টি করাই এই নীতির মূল লক্ষ্য।
এদিকে কিছু বিনিয়োগকারী সংগঠন এবং সম্পত্তি মালিক নতুন কর ব্যবস্থার সমালোচনা করলেও সরকার মনে করছে, আবাসন সরবরাহ বৃদ্ধি, প্রথমবারের ক্রেতাদের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য এই সংস্কার একটি প্রয়োজনীয় ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ।











