ক্যানবেরা: অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী দল লিবারেল পার্টি সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ঐতিহাসিকভাবে নিম্নমুখী সমর্থনের মুখে পড়ায় দলটির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা ও ছায়া এনডিআইএসমন্ত্রী মেলিসা ম্যাকইনটোশ প্রকাশ্যে দলটির ভাবমূর্তি ও মূল্যবোধ পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।
একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ম্যাকইনটোশ বলেন, বর্তমান সময়ের অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লিবারেল পার্টিকে নিজেদের নতুনভাবে উপস্থাপন করার সময় এসেছে। তাঁর মতে, অনেক ভোটার মনে করেন দলটি অতীতের রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যেই আটকে রয়েছে। তাই শুধু নীতিমালা নয়, দলের পরিচিতি, মূল্যবোধ এবং জনসংযোগ কৌশলও নতুন করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজন হলে দলের নাম পরিবর্তনের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। যদিও তিনি এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত প্রস্তাব দেননি, তাঁর মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ম্যাকইনটোশের এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন সর্বশেষ নিউসপোল জরিপে লিবারেল–ন্যাশনাল জোটের (কোয়ালিশন) প্রাথমিক ভোটের হার নেমে এসেছে ১৭ শতাংশে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সর্বনিম্ন অবস্থান। একই জরিপে ক্ষমতাসীন Australian Labor Party-এর সমর্থন ছিল ৩৩ শতাংশ। পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দলও উল্লেখযোগ্য সমর্থন ধরে রেখেছে।
অন্যদিকে, পৃথক একটি রেডব্রিজ জরিপেও দেখা গেছে, লেবার পার্টির অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকলেও কোয়ালিশনের জনসমর্থন বাড়াতে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
বিরোধীদলীয় নেতা Angus Taylor সাম্প্রতিক সমালোচনার জবাবে বলেন, অতীতে দল কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং সেসব কারণে ভোটারদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময় সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সময় সরকারের ভূমিকা নিয়ে জনগণের মধ্যে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে।
তবে তিনি দাবি করেন, বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে দলটি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, ছোট সরকার এবং অর্থনৈতিক দায়বদ্ধতার নীতিকে সামনে রেখে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।
ম্যাকইনটোশের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদেও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রী Anthony Albanese কৌতুক করে বলেন, বিরোধী দলের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা যখন নিজের দলের নাম পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা বলেন, তখন সেটি দলটির বর্তমান অবস্থারই প্রতিফলন।
আবাসনমন্ত্রী Clare O’Neilও মন্তব্য করেন, বিরোধী দলের ভেতরেই যখন দলটির পরিচয় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন তা তাদের অভ্যন্তরীণ সংকটের ইঙ্গিত দেয়।
অন্যদিকে লিবারেল এমপি Andrew Hastie অপেক্ষাকৃত সংযত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক সমর্থন পুনরুদ্ধার করতে সময় লাগে। তাঁর মতে, দলকে বিচলিত না হয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
এদিকে অবসর নিতে যাওয়া সিনেটর Jonno Duniam মন্তব্য করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে বিভিন্ন দলের ভিড়ে লিবারেল পার্টি নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারেনি।
ম্যাকইনটোশ বলেন, ভবিষ্যতে দলকে এমন একটি আধুনিক রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যার নীতি ও মূল্যবোধ শুধু প্রবীণ ভোটার নয়, নারী এবং তরুণ প্রজন্মের কাছেও গ্রহণযোগ্য হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক জনমত জরিপ এবং পুনর্গঠনের আলোচনা লিবারেল পার্টির অভ্যন্তরে আত্মসমালোচনার একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এখন দলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—কীভাবে ঐতিহ্যগত সমর্থন ধরে রেখে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের আস্থা অর্জন করা যায় এবং পরবর্তী ফেডারেল নির্বাচনের আগে নিজেদের একটি গ্রহণযোগ্য বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়।











