Home বিনোদন স্বাধীনতার পাঁচ বছর পরও লড়াই থামেনি পপ তারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্সের জীবনে

স্বাধীনতার পাঁচ বছর পরও লড়াই থামেনি পপ তারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্সের জীবনে

19
0

বিশ্বখ্যাত পপ তারকা Britney Spears-এর জীবনে স্বাধীনতার পাঁচ বছর পরও যেন ঝড় থামছে না। ২০২১ সালে তার বাবার দীর্ঘ ১৩ বছরের কনজারভেটরশিপের অবসান হওয়ার পর ভক্তরা আশা করেছিলেন, অবশেষে শান্তি ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন “প্রিন্সেস অব পপ”। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আবারও প্রশ্ন তুলেছে— কীভাবে এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছালেন একসময়কার বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই শিল্পী?

৪৪ বছর বয়সী এই গ্র্যামি জয়ী গায়িকা সম্প্রতি বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। মার্চ মাসে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আদালত তাকে ৫৭১ মার্কিন ডলার জরিমানা, নিয়মিত মনোবিজ্ঞানী ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার নির্দেশ, এক বছরের প্রবেশন এবং বাধ্যতামূলক DUI ক্লাসে অংশ নেওয়ার আদেশ দিয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার প্রসিকিউটররা প্রথমে অভিযোগ করেছিলেন যে তিনি মদ ও মাদকের প্রভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তবে কম গুরুতর অভিযোগে দোষ স্বীকার করা এবং স্বেচ্ছায় পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি হওয়ায় বড় শাস্তি এড়াতে সক্ষম হন তিনি।

ব্রিটনির আইনজীবী Michael A. Goldstein জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় ফলাফল নিয়ে সবাই সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, “ব্রিটনি নিজেকে সুস্থ করতে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা আদালতও বিবেচনায় নিয়েছে।”

২০২১ সালে কনজারভেটরশিপ শেষ হওয়ার পর ব্রিটনির জীবন নানা নাটকীয় মোড় নেয়। ওই ব্যবস্থার অধীনে তার বাবা Jamie Spears তার ব্যক্তিগত জীবন, আর্থিক সিদ্ধান্ত এবং পেশাগত কর্মকাণ্ড পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতেন।

পরবর্তীতে ব্রিটনি তার দীর্ঘদিনের প্রেমিক Sam Asghari-কে বিয়ে করেন। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। একই সময়ে প্রকাশিত হয় তার আত্মজীবনী The Woman In Me, যেখানে তিনি সংগীতজগতের অন্ধকার দিক ও নিজের মানসিক সংগ্রামের কথা খোলামেলাভাবে তুলে ধরেন।

পরে তার সাবেক স্বামী Kevin Federline-ও নিজের বই প্রকাশ করেন, যেখানে ব্রিটনির মাদক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিতর্কিত অভিযোগ তোলা হয়।

সংগীতজীবনেও ধীরে ধীরে দূরে সরে গেছেন ব্রিটনি। তিনি ২০২২ সালে Elton John-এর সঙ্গে “Hold Me Closer” এবং ২০২৩ সালে will.i.am-এর সঙ্গে “Mind Your Business” গান প্রকাশ করেন। তবে গত বছর তিনি প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারে নিজের পুরো মিউজিক ক্যাটালগ বিক্রি করে দেন।

এ ঘটনায় অনেকে মনে করছেন, তিনি হয়তো স্থায়ীভাবেই সংগীত থেকে সরে যাচ্ছেন। নিজেও এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লিখেছিলেন, “আমি আর কখনও মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে ফিরব না।”

বর্তমানে ব্রিটনি ক্যালিফোর্নিয়ার বিলাসবহুল এলাকায় নিজের বাড়িতে অনেকটা বিচ্ছিন্ন জীবন কাটাচ্ছেন। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই নাচের ভিডিও দেখা যায়, যা তিনি নিজের মানসিক সুস্থতা ও সৃজনশীল প্রকাশের মাধ্যম বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি তার স্মৃতিকথায় লিখেছেন, “সারা জীবন যখন আপনাকে অন্যরা নিয়ন্ত্রণ করে, তখন নিজের পোশাক আর ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে থাকা অনেক স্বস্তির।”

তবে জনসমক্ষে তার আচরণ নিয়ে এখনও আলোচনা-সমালোচনা থামেনি। ২০২৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসের Chateau Marmont-এর বাইরে পায়জামা পরে উপস্থিত হওয়া কিংবা গাড়ি চালানোর সময় অস্বাভাবিক আচরণের ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল।

১৯৯৮ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে …Baby One More Time গান দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলেন ব্রিটনি। এরপর “Oops!… I Did It Again”, “I’m a Slave 4 U” এবং Toxic-এর মতো হিট গান তাকে বিশ্বসেরা পপ তারকাদের একজন বানিয়ে দেয়।

কিন্তু খ্যাতির চাপ, পাপারাজ্জিদের অবিরাম অনুসরণ, ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভাঙন এবং মানসিক চাপে ২০০৭ সালে তিনি ভেঙে পড়েন। সেই সময় মাথা ন্যাড়া করা ও পাপারাজ্জিদের ওপর ছাতা নিয়ে হামলার ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।

পরে শুরু হয় #FreeBritney আন্দোলন, যেখানে ভক্তরা দাবি করেন ব্রিটনিকে জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে। ২০২১ সালে আদালতে নিজের বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, তাকে জোর করে কাজ করানো হয়েছে, ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে এবং সন্তান নেওয়ার অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে।

তার পক্ষে তখন সমর্থন জানিয়েছিলেন Justin Timberlake, Christina Aguilera, Cher-সহ বহু তারকা।

বর্তমানে ব্রিটনির নতুন অ্যালবাম বা ট্যুরের কোনো ঘোষণা নেই। তবে সম্প্রতি তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় ছেলে সঙ্গে নিয়ে ছোট পরিসরে পারফর্ম করতে পারেন।

দীর্ঘ সংগ্রাম, বিতর্ক ও ব্যক্তিগত সংকটের মধ্য দিয়ে গেলেও এখন অন্তত নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজেই নিচ্ছেন ব্রিটনি স্পিয়ার্স। আর সেটিই হয়তো তার সবচেয়ে বড় স্বাধীনতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here