Home জীবনযাপন Entertainment ফ্রি বিলাসপণ্য বিক্রি করে আয় করছেন সিডনির ইনফ্লুয়েন্সাররা, ‘সাস্টেইনেবল শপিং’ নিয়ে বিতর্ক

ফ্রি বিলাসপণ্য বিক্রি করে আয় করছেন সিডনির ইনফ্লুয়েন্সাররা, ‘সাস্টেইনেবল শপিং’ নিয়ে বিতর্ক

3
0

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে নতুন এক “সাস্টেইনেবল শপিং” ট্রেন্ড নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, শহরের প্রভাবশালী ইনফ্লুয়েন্সার ও সামাজিক অঙ্গনের ধনী ব্যক্তিরা বিভিন্ন ব্র্যান্ড থেকে বিনামূল্যে পাওয়া বিলাসবহুল পণ্য আবার অনলাইনে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করছেন।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও, সিডনির কিছু ইনফ্লুয়েন্সারের জন্য এটি যেন বাড়তি আয়ের নতুন সুযোগ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাঠানো ফ্রি PR প্যাকেজ, স্পন্সরড পোশাক, কসমেটিকস ও লাইফস্টাইল পণ্য এখন Depop, Facebook Marketplace কিংবা বিশেষ রিসেল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে।

একটি জনপ্রিয় ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট, যার অনুসারী সংখ্যা ৫০ হাজারেরও বেশি, নিজেদের “সাস্টেইনেবল ও সাশ্রয়ী শপিং” প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রচার করছে। সেখানে ইনফ্লুয়েন্সারদের আলমারি থেকে সরাসরি ডিজাইনার পোশাক ও বিউটি পণ্য কম দামে কেনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

তবে সমালোচকদের মতে, এই “সাস্টেইনেবল” ধারণার আড়ালে আসলে ফ্রি পাওয়া পণ্য বিক্রি করে লাভ করার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।

একজন ইনফ্লুয়েন্সার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “অনেকেই ব্র্যান্ড থেকে বিনামূল্যে পণ্য পাচ্ছেন, এরপর সেগুলো ইনস্টাগ্রাম বা Depop-এ বিক্রি করছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে এসব পণ্য দান করে দিই।”

রিপোর্টে দেখা গেছে, বহু পণ্যের দাম দ্রুত কমিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে একটি বিউটি ব্র্যান্ডের ২৯০ ডলারের প্যাকেজ ১৬৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। আবার ১০০ ডলারের সাপ্লিমেন্ট ৪৫ ডলারে নেমে এসেছে। এমনকি খোলা হয়নি এমন Valentino পারফিউম ও Dior লিপ অয়েল সেটও অর্ধেকের কম দামে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে।

বিশেষ করে Dior-এর বিলাসবহুল লিপ অয়েল PR প্যাকেজ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে সিডনির বহু ইনফ্লুয়েন্সার এই বিশেষ প্যাকেজ উপহার পেয়েছিলেন। পরে একই ধরনের পণ্য পুনরায় বিক্রির জন্য অনলাইনে দেখা যেতে থাকে।

ফ্যাশন ও মার্কেটিং বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিংয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। কারণ, যেসব পণ্যকে সামাজিক মাধ্যমে “অবশ্যই ব্যবহারযোগ্য” বা “লাইফস্টাইল পরিবর্তনকারী” হিসেবে প্রচার করা হয়, সেগুলো অল্প সময়ের মধ্যেই বিক্রির জন্য তুলে দেওয়া হচ্ছে।

একজন শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বলেন, “মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে যেসব পণ্য কিনতে চায়, ইনফ্লুয়েন্সাররা সেগুলো ফ্রিতে পাচ্ছেন এবং পরে বিক্রি করছেন। এটা অনেকের কাছেই অনৈতিক মনে হচ্ছে।”

আরেকজন বলেন, “ভোক্তারা মনে করেন তারা বাস্তব অভিজ্ঞতা দেখছেন, কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় এটি কেবল বাণিজ্যিক প্রচারণা। যখন কেউ কোনো পণ্য প্রচার করে এবং পরে সেটি বিক্রি করেও অর্থ আয় করে, তখন সেটি বিভ্রান্তিকর হয়ে ওঠে।”

তবে সবাই এই পথে হাঁটছেন না। কিছু ইনফ্লুয়েন্সার, যেমন Sophia Begg ও Elle Ray, নিজেদের ব্যবহৃত পোশাক বিক্রি করে সেই অর্থ দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করছেন। তারা Ronald McDonald House-এর মতো প্রতিষ্ঠানে সহায়তা করেছেন।

তারপরও সমালোচকদের মতে, অনেক ইনফ্লুয়েন্সারের ক্ষেত্রে “সাস্টেইনেবল শপিং” এখন মূলত নতুন আয়ের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। যে ফিটনেস বাইককে একসময় “পারফেক্ট ফিজিকের গোপন রহস্য” বলা হয়েছিল, সেটিও এখন ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে বিক্রির জন্য দেখা যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা আধুনিক ইনফ্লুয়েন্সার সংস্কৃতির বাস্তবতা তুলে ধরছে— যেখানে জীবনধারা, বিজ্ঞাপন ও ব্যক্তিগত লাভের সীমারেখা ক্রমেই ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here