Singapore সরকার তাদের সর্বশেষ অর্থনৈতিক কৌশল পর্যালোচনায় সতর্ক করেছে যে বিশ্ব এখন আরও অস্থির, বিভক্ত এবং অনিশ্চিত এক যুগে প্রবেশ করছে। বাণিজ্য যুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক সংঘাত, সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্ন এবং বাড়তে থাকা সুরক্ষাবাদী নীতির কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিঙ্গাপুরের নতুন “Economic Strategy Review”-এ প্রথমবারের মতো বিশেষভাবে “resilience” বা অর্থনৈতিক সহনশীলতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার ইঙ্গিত দিয়েছে যে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক অর্থনীতি আরও ঘনঘন ধাক্কার মুখোমুখি হতে পারে।
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, অতীতের মতো স্থিতিশীল বিশ্বায়নের ওপর আর পুরোপুরি নির্ভর করা সম্ভব নয়। কয়েক দশক ধরে যে বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থা সিঙ্গাপুরের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে চালিত করেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটি ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
এখন সিঙ্গাপুরকে একই সঙ্গে অর্থনৈতিক নমনীয়তা, জাতীয় নিরাপত্তা, সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন, জ্বালানি দামের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার বিভাজনকে দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিঙ্গাপুর তাদের বাণিজ্য অংশীদার বৈচিত্র্যময় করার পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে উন্নত উৎপাদনশিল্প, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং উচ্চপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।
বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে Artificial Intelligence, সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলজি এবং সবুজ প্রযুক্তির মতো ভবিষ্যৎ খাতগুলোকে।
সরকার আরও বলেছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শ্রমশক্তিকে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, এখন “resilience” বলতে শুধু সংকট কাটিয়ে ওঠা বোঝায় না; বরং বারবার আসা ধাক্কা সামলেও অর্থনীতিকে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থায় ধরে রাখার সক্ষমতাকেও বোঝায়।
বিশ্লেষকদের মতে, সিঙ্গাপুরের এই নতুন কৌশল পুরো এশিয়া অঞ্চলের বড় উদ্বেগকে প্রতিফলিত করছে। বহু বছর তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকার পর এখন বৈশ্বিক অর্থনীতি কাঠামোগতভাবেই আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল হওয়ায় সিঙ্গাপুর ভূরাজনৈতিক বিভাজনের ঝুঁকিতে বেশি সংবেদনশীল বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সিঙ্গাপুর সরকার স্পষ্ট করেছে যে তারা বিশ্বের অন্যতম উন্মুক্ত অর্থনীতি হিসেবেই থাকতে চায়। তাদের মতে, অভিযোজন ক্ষমতা, উদ্ভাবন এবং কৌশলগত নিরপেক্ষতাই ভবিষ্যতের আরও “ঝড়ো” বৈশ্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলার মূল চাবিকাঠি হবে।










