Home বিশ্ব ট্রাম্পের চীন সফর: ইরান যুদ্ধ থেকে বেরোতে চীনের ওপরই ভরসা?

ট্রাম্পের চীন সফর: ইরান যুদ্ধ থেকে বেরোতে চীনের ওপরই ভরসা?

109
0

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে প্রথমবারের মতো চীন সফর নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র আগ্রহ। এই সফর শুধু দুই বৃহৎ শক্তির মধ্যে প্রতিযোগিতা ও নির্ভরতার সম্পর্ককে তুলে ধরছে না, বরং ইরান যুদ্ধের মতো জটিল সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাস্তবতাকেও প্রকাশ করছে। লেখক নেলসন ওয়ং-এর মতে, ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ইরান ইস্যুকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছেন। কারণ, দীর্ঘদিনের এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিরাট চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্রাম্পের অবস্থান স্পষ্ট—তিনি দ্রুত ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে চান। মার্কিন ভোটাররা যুদ্ধে ক্লান্ত, মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে, আর সাধারণ মানুষ নতুন করে যুদ্ধের বোঝা নিতে রাজি নয়। প্রতিরক্ষা শিল্প লাভবান হলেও সাধারণ পরিবারের জীবনে কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে না। ট্রাম্প চান এমন একটি বার্তা দিতে যে তিনি শুধু যুদ্ধ শুরু করেন না, বরং শেষও করতে পারেন। আর এখানেই চীনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীনের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক স্থিতিশীল ও বিশ্বাসভিত্তিক। বেইজিং কখনো তেহরানের ওপর প্রকাশ্য চাপ সৃষ্টি করে না, বরং সমান মর্যাদায় সম্পর্ক রাখে। ফলে ইরানের কাছে চীনের কথার আলাদা গুরুত্ব রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

তবে চীন কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশ মেনে কাজ করবে না। তারা চাইলে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে পারে, কিন্তু তা হবে তাদের নিজস্ব শর্তে এবং বৃহত্তর বিশ্ব স্থিতিশীলতার স্বার্থে। ট্রাম্পের এই সফর আসলে যুক্তরাষ্ট্রের একধরনের বাস্তবতার স্বীকারোক্তি—যে দেশ নিজেকে বিশ্বরাজনীতির নিয়ন্ত্রক ভাবত, সেই দেশই এখন একটি বড় সংকট মেটাতে চীনের সাহায্য চাইছে। অর্থনৈতিক দিক থেকেও একই দ্বন্দ্ব। যুক্তরাষ্ট্র চায় চীন বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ) রপ্তানি সহজ করুক, যা আধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি তৈরিতে অপরিহার্য। একই সঙ্গে চীন যেন বড় পরিমাণে মার্কিন কৃষিপণ্য কিনে। কিন্তু চীনের অবস্থান উল্টো—তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নিজেদের পণ্যের সুবিধা চায়। এই জটিল সম্পর্কের মধ্য দিয়েই ট্রাম্প চীনের ওপর ভর করে ইরান যুদ্ধ থেকে বেরোতে চাইছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এই সফরের ফলাফল শুধু যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক নয়, পুরো বিশ্বের ভূ-রাজনীতিকে প্রভাবিত করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here