ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি জোর দিয়ে বলেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র কোনো সময় শত্রুর কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। তিনি বলেন, যখন কোনো শক্তি রাষ্ট্র ও জনগণের ওপর জোর করে নিজের মত চাপিয়ে দিতে চায়, তখন তার বিরুদ্ধে শক্তভাবে রুখে দাঁড়ানো জরুরি।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) হযরত আলী (রা.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ কাসেম সোলাইমানি এবং অন্যান্য শহীদদের পরিবারের সঙ্গে এক সাক্ষাতে এই বক্তব্য দেন খামেনি। তিনি বলেন, “শত্রু কখনো সরাসরি যুদ্ধের পাশাপাশি ‘সফট ওয়ার’ বা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে লিপ্ত থাকে, যার মাধ্যমে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি, হতাশা এবং অবিশ্বাস ছড়িয়ে দিতে চায়।” তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ইরানি জাতি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও ঐক্য ও সাহসিকতার মাধ্যমে এসব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সক্ষম হবে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা ও দেশের অর্থনৈতিক সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরানে মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়াকে বাস্তব সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এটি সরকারের চেষ্টায় সমাধানযোগ্য। তিনি এটাও বলেন যে, এই অর্থনৈতিক দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে কিছু উসকানিদাতা এবং শত্রু-সমর্থিত চক্র ধর্মপ্রাণ ব্যবসায়ীদের আড়াল নিয়ে সরকারবিরোধী কার্যক্রম চালাচ্ছে, যা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
খামেনি স্পষ্ট করে বলেন, “প্রতিবাদ করা নাগরিকদের অধিকার, তবে সেই অধিকার যেন বিশৃঙ্খলা বা নাশকতায় পরিণত না হয়।” তিনি আরও বলেন, সরকারকে অবশ্যই জনগণের বক্তব্য শোনার পরিবেশ তৈরি করতে হবে, তবে যারা অরাজকতা ও উসকানির মাধ্যমে পরিস্থিতিকে ঘোলা করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তিনি বাজার ও ব্যবসায়ীদের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, “ইসলামী বিপ্লবের ইতিহাসে ব্যবসায়ী শ্রেণি অন্যতম বিশ্বস্ত অংশ হিসেবে ভূমিকা রেখেছে।” কিন্তু একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, “কিছু সুবিধাভোগী গোষ্ঠী এই শ্রেণির আন্দোলনকে অপব্যবহার করে ইসলাম, ইরান ও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে—এটি পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।”
খামেনি আরও বলেন, শত্রু কখনো নিষ্ক্রিয় থাকে না। তারা প্রতিটি দুর্বল মুহূর্তকে কাজে লাগাতে চায়। তাই জাতীয় ঐক্য এবং সচেতনতা বজায় রাখা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।










