বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গত ১৬ বছরের সংগ্রাম, রক্তঝরা আন্দোলন ও অবিচল ত্যাগের মাধ্যমে জনগণ যে গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে এনেছে, এখন সেই অধিকার প্রয়োগের সময়। নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের যাত্রা শুরু করতে বিএনপি সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ খেলার মাঠে ঢাকা–১৭ আসনে ধানের শীষের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, “গত ১৬ বছরে, বিশেষ করে জুলাইয়ের আন্দোলনে, অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছেন, কেউ স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা আবার ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছি। এখন সেই অধিকার প্রয়োগের দায়িত্ব আমাদের সবার।”
তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান।
ঢাকা–১৭-এর সঙ্গে নিজের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শৈশব–কৈশোর থেকেই তিনি এই এলাকার মানুষের জীবনযাপন, কষ্ট ও প্রত্যাশার সঙ্গে পরিচিত। তাই মানবিক ও উন্নয়নমূলক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার নিয়েই এখানে উপস্থিত হয়েছেন।
বিএনপির পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন—
পরিবার ও নারী উন্নয়ন
প্রতিটি মা ও গৃহিণীর হাতে ন্যূনতম মাসিক আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে, যাতে তারা ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হতে পারেন।
কৃষকের জন্য কৃষিকার্ড
কৃষকদের জন্য ‘কৃষিকার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে সরকারি সহায়তা সরাসরি তাদের কাছে পৌঁছাবে।
তিনি বলেন, “কৃষক ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকে।”
তরুণদের কর্মসংস্থান
বেকার তরুণদের দক্ষ করে তুলতে সারা দেশে কারিগরি, আইটি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।
বিদেশগামী কর্মীদের জন্য স্বল্পসুদে ঋণের ব্যবস্থাও থাকবে, যাতে বিদেশ যেতে জমি বিক্রি করতে না হয়।
স্বাস্থ্যসেবা
সরকার গঠন করতে পারলে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং ঘরে বসেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যাবে বিশেষ করে নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর।
ধর্মীয় নেতাদের সম্মান ও ভাতা
ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ভাতা ও সামাজিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা হবে।
ঢাকা–১৭–এর সমস্যার প্রসঙ্গ
তারেক রহমান বলেন, এ এলাকায় যানজট, জলাবদ্ধতা ও দূষণ বড় সমস্যা। এগুলো সমাধানে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
বক্তব্যে তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বকে স্মরণ করে বলেন, দক্ষ নেতৃত্বই দেশের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। বিএনপির অর্জিত অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনাই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রধান শক্তি।
শেষে তিনি ঢাকা–১৭-এর ভোটারসহ দেশের সব নাগরিককে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের সবার। দেশ গড়ার দায়িত্বও আমাদের সবার। করবো কাজ, গড়বো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ।”










