Netrokona জেলার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় একটি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, তবে এখনো তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষক কয়েক বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটি তার নানার বাড়িতে থেকে সেখানে পড়াশোনা করত। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে তার মা অন্য জেলায় গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন, ফলে শিশুটি পরিবারের তত্ত্বাবধান থেকে অনেকটা দূরে ছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের নভেম্বর মাসে মাদ্রাসা ছুটির পর ওই শিক্ষক শিশুটিকে একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে তার ও তার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতির হুমকিও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে একইভাবে একাধিকবার শিশুটির ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক অসুস্থতা ও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেলে তার মা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষায় জানা যায়, শিশুটি প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তার বয়স কম, ওজন কম এবং শারীরিক গঠন দুর্বল হওয়ায় স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তার রক্তস্বল্পতা রয়েছে, যা মা ও গর্ভস্থ শিশুর জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে। চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাও এ ক্ষেত্রে জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিশুটির মা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তিনি জানান, দারিদ্র্যের কারণে মেয়েকে দূরে রেখে পড়াশোনা করানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু এমন ঘটনা তার কল্পনারও বাইরে ছিল।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে এবং তিনি পরিবারসহ আত্মগোপনে গেছেন বলে জানা গেছে।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।










