অস্ট্রেলিয়া সরকার আসন্ন বাজেটে নতুন ব্যয়ের পরিবর্তে সঞ্চয়কে অগ্রাধিকার দিতে যাচ্ছে, কারণ উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং সুদের হার বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবিলা করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। Jim Chalmers ও Katy Gallagher এমন একটি বাজেট প্রস্তুত করছেন, যেখানে অতিরিক্ত রাজস্ব ব্যয় না করে সংরক্ষণ করা হবে।
ইরান সংঘাতের কারণে তেল ও গ্যাসের মতো পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকার অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অতিরিক্ত আয় ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত ১৫ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে। তবে সরকার এই অর্থ ব্যয় না করে বাজেট ঘাটতি কমাতে ব্যবহার করবে।
সরকারের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো Reserve Bank of Australia-কে আরও কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ থেকে বিরত রাখা। কারণ অতিরিক্ত সরকারি ব্যয় মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আবার সুদের হার বাড়াতে বাধ্য করতে পারে।
বর্তমানে বাজেট ঘাটতি ধীরে ধীরে কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে—এই অর্থবছরে ৩৬.৮ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ২০২৬-২৭ সালে ৩৪.৩ বিলিয়ন ডলারে নামতে পারে। পাশাপাশি সরকার আগামী চার বছরে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়েছে, যার বড় অংশ আসবে বিভিন্ন খাতে সংস্কার ও ব্যয় কমানোর মাধ্যমে।
এই সাশ্রয় করা অর্থ প্রতিরক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি কর কমানো এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় করা হবে। তবে সরকার ব্যয়ের মাত্রা নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছে, কারণ সরকারি ব্যয় এখন মোট জিডিপির প্রায় ২৬.৯ শতাংশ—যা মহামারির বাইরে দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে বিরোধী দল সরকারের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করেছে। শ্যাডো ট্রেজারার Tim Wilson দাবি করেছেন, সরকারের নীতির কারণে করের চাপ বেড়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে, যার ফলে সুদের হারও বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষের ঋণের বোঝা বেড়েছে।
এদিকে বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, Reserve Bank of Australia আবারও সুদের হার বাড়াতে পারে। যদি আরও ০.২৫ শতাংশ হার বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে তা ৪.৩৫ শতাংশে পৌঁছাবে এবং একটি গড় গৃহঋণের ক্ষেত্রে মাসিক কিস্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।
বিশ্বব্যাপী পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। উচ্চ তেলের দাম ও যুদ্ধজনিত প্রভাব মুদ্রাস্ফীতি বাড়াচ্ছে, যা বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে। উদাহরণস্বরূপ, Bank of England-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকলে সুদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে এবং অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়তে পারে।










