জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন মাত্রায় পৌঁছাতে যাচ্ছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী Sanae Takaichi-এর ক্যানবেরা সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে, যার অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রসহ আধুনিক অস্ত্রের পরীক্ষা আরও বাড়ানো হবে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী Anthony Albanese-এর সঙ্গে বৈঠকের পর তাকাইচি দুই দেশের সম্পর্ককে “কোয়াসি অ্যালাই” বা প্রায় মিত্র পর্যায়ের বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সমমনা দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ও জাপান যৌথ নিরাপত্তা সহযোগিতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন প্রযুক্তি, উন্নত অস্ত্র এবং আধুনিক সামরিক সরঞ্জামের পরীক্ষা ও উন্নয়ন ভবিষ্যতে সহযোগিতার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হবে। অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ ভৌগোলিক এলাকা—বিশেষ করে Woomera Test Range—জাপানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জাপানের নিজস্ব ভূখণ্ড ছোট এবং জনসংখ্যা ঘন।
জাপান বর্তমানে প্রতিরক্ষা ব্যয় দ্রুত বাড়াচ্ছে এবং দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও হাইপারসনিক অস্ত্রের মতো উন্নত প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছে। এর পেছনে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে China-এর উত্থান একটি বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে, দুই দেশ শুধু প্রতিরক্ষা খাতেই নয়, বরং জ্বালানি নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো খাতেও সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে একমত হয়েছে।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে। Australian Strategic Policy Institute একটি প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়াকে বিকল্প পরিকল্পনা হিসেবে জাপানের কাছ থেকে সাবমেরিন ভাড়া নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে, যদি AUKUS চুক্তির বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়। তবে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী Penny Wong স্পষ্ট করেছেন যে সরকার AUKUS পরিকল্পনার প্রতিই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং অন্য কোনো বিকল্প অনুসন্ধান করছে না।
বৈঠকে অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের মধ্যে সম্পর্ককে “আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী” বলে উল্লেখ করেন আলবানিজ। তিনি বলেন, উভয় দেশই একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গঠনে একসঙ্গে কাজ করছে।










