অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলসকে সংসদীয় ভ্রমণ ব্যয়ের নিয়ম ভঙ্গের কারণে করদাতাদের অর্থ ফেরত দিতে হয়েছে। স্বাধীন সংসদীয় ব্যয় কর্তৃপক্ষ (IPEA) তদন্ত করে দেখতে পায়, তিনি চারটি ক্ষেত্রে ভ্রমণ সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন, যার মধ্যে ছিল তার স্বামীর ২০২৫ সালের AFL গ্র্যান্ড ফাইনাল ভ্রমণের ব্যয়ও। এর ফলে তাকে মোট ১০,১১৬ অস্ট্রেলিয়ান ডলার ফেরত দিতে হয়েছে, যার মধ্যে ৮,০৯৩ ডলার অনুপযুক্ত ভ্রমণ ব্যয় এবং অতিরিক্ত ২,০২৩ ডলার জরিমানা অন্তর্ভুক্ত।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়েলসের স্বামী ফিন ম্যাকার্থি ২০২২ সালে ব্রিসবেন থেকে ক্যানবেরায় গিয়েছিলেন সন্তানদের আনতে, যখন মন্ত্রী কোভিডে আক্রান্ত ছিলেন। কিন্তু যেহেতু ওই সফরে তাদের সরাসরি সাক্ষাৎ হয়নি, তাই সেই ভ্রমণকে পারিবারিক পুনর্মিলন হিসেবে বৈধ ধরা হয়নি এবং প্রায় ১,২০০ ডলার ফেরত দিতে হয়।
আরেকটি ঘটনায়, ২০২৪ সালে ওয়েলসের পরিবার ক্যানবেরায় তার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গেলেও তখন তিনি সংসদীয় কাজ করছিলেন না বলে ধরা হয়। ফলে ওই সফরের জন্য ব্যয় হওয়া ৫,৫১৩ ডলারও ফেরত দিতে হয়েছে।
২০২৫ সালের AFL গ্র্যান্ড ফাইনালে অংশ নিতে তার স্বামীর মেলবোর্ন সফর আংশিকভাবে বৈধ ধরা হলেও, ফেরার ফ্লাইটের খরচ নিয়মবহির্ভূত হিসেবে গণ্য হয়। কারণ ওয়েলস আগেই ব্রিসবেনে ফিরে গিয়েছিলেন এবং তার সংসদীয় কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল। ফলে ওই খাতে আরও ৭২৬ ডলার ফেরত দিতে হয়েছে।
তবে তদন্তে থ্রেডবো স্কি রিসোর্টে পারিবারিক সফর কিংবা অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের বাইরে দীর্ঘ সময় গাড়ি অপেক্ষা করানোর মতো কিছু ব্যয় বৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। একইভাবে অ্যাডিলেড সফর, যেখানে ওয়েলস দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং পরে একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে অংশ নেন, সেটিও সংসদীয় কাজের অংশ হিসেবে অনুমোদিত হয়।
ওয়েলস এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সেগুলো তার কাছে “আরও যৌক্তিক ও সাশ্রয়ী” মনে হয়েছিল, কিন্তু সেগুলো নিয়মের মধ্যে পড়েনি। তিনি ভুল স্বীকার করে বলেন, তিনি অর্থ ফেরত দিয়েছেন এবং অতিরিক্ত জরিমানাও পরিশোধ করেছেন।
এই ঘটনা অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে সংসদীয় ব্যয় নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন দলের আরও কয়েকজন রাজনীতিবিদের ভ্রমণ ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী দল সরকারকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানালেও প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজি বলেছেন, ওয়েলস নিজেই বিষয়টি তদন্তে দিয়েছেন এবং অর্থ ফেরত দিয়েছেন, তাই তার পদত্যাগের প্রয়োজন নেই।










