অস্ট্রেলিয়ার ফ্যারার উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিশেল মিলথর্প এখন একটি আলোচিত নাম। বিশাল গ্রামীণ এই অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি শহর ও জনপদে কেউ না কেউ তার সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তিগত গল্প জানেন। কেউ তাকে স্কুলের শিক্ষক হিসেবে মনে রাখেন, কেউ বলেন তিনি কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, আবার কেউ তাকে স্থানীয় সমস্যার জন্য লড়াই করা একজন মানুষ হিসেবে দেখেন।
মারে নদীর তীর ঘেঁষে বিস্তৃত কৃষি ও সেচনির্ভর এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে একটি ক্ষোভ জমে উঠেছে। স্থানীয়রা মনে করেন বড় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সমস্যার কথা শোনে না। পানি সংকট, স্বাস্থ্যসেবা ঘাটতি, শিশুসেবা সমস্যা এবং আঞ্চলিক অবহেলা নিয়ে বহু বছরের হতাশা এখন রাজনৈতিক বিদ্রোহে রূপ নিচ্ছে।
মিশেল মিলথর্প বলছেন, এই নির্বাচনে মানুষ “ভালো কিছু” খুঁজছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রাজনীতি আঞ্চলিক জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি নিজেকে “কমিউনিটি ইন্ডিপেনডেন্ট” হিসেবে পরিচয় দেন এবং দাবি করেন, তার রাজনীতি কোনো মতাদর্শ নয়, বরং স্থানীয় মানুষের বাস্তব চাহিদা থেকে গড়ে উঠেছে।
একসময় ফ্যারার ছিল লিবারেল পার্টির অত্যন্ত নিরাপদ আসন। বহু বছর ধরে সুসান লে এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করলেও, অনেক স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ—তিনি যত বড় রাজনৈতিক পদে গেছেন, ততই এলাকার সঙ্গে তার সংযোগ কমেছে। সেই অসন্তোষই এখন বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। কেউ ওয়ান নেশন ও তাদের প্রার্থী ডেভিড ফারলির দিকে ঝুঁকছেন, আবার অনেকে মিলথর্পের স্বাধীন প্রচারণাকে সমর্থন করছেন। তবে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে একটি বিষয় অভিন্ন—তারা মনে করেন বড় দলগুলো বহু আগেই জনগণের কথা শোনা বন্ধ করেছে।
এই আন্দোলনে ৮০০-র বেশি স্বেচ্ছাসেবক যুক্ত হয়েছেন, যারা পুরো ফ্যারার অঞ্চলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। মিলথর্প গত ফেডারেল নির্বাচনে সুসান লের শক্ত ঘাঁটিতেও উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে ভোট কমিয়ে দিয়েছিলেন।
লিবারেল পার্টি তাকে “টিল” স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছে, বিশেষ করে ক্লাইমেট ২০০ থেকে অর্থ সহায়তা পাওয়ার কারণে। তবে মিলথর্প দাবি করেন, তার অবস্থান শহুরে “টিল” রাজনীতির সঙ্গে মেলে না। তিনি বলেন, বর্তমান অবস্থায় ২০৫০ সালের নেট জিরো লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয় এবং অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য কয়লা ও গ্যাসেরও ভূমিকা থাকা দরকার।
ফ্যারারের এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে পাশের ভিক্টোরিয়ার ইন্ডি আসনের মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকেই। সেখানে স্বাধীন প্রার্থীরা দীর্ঘদিনের লিবারেল দখল ভেঙে সফল হয়েছেন। অনেক স্থানীয় ভোটার এখন বলছেন, “আমরাও পরিবর্তন চাই।”
এদিকে, ওয়ান নেশনের উত্থান এবং স্বতন্ত্রদের জনপ্রিয়তা লিবারেল পার্টির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, এটি শুধু একটি আসনের লড়াই নয়—বরং আঞ্চলিক অস্ট্রেলিয়ায় বড় দলগুলোর প্রতি ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের প্রতিফলন।










