অস্ট্রেলিয়ার মূল্যস্ফীতি চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে এবং যদি ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ মার্কিন ডলারে পৌঁছে যায়, তাহলে বছরের শেষ নাগাদ তা ৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগামী বাজেটে অর্থমন্ত্রী জিম চ্যালমার্স স্বীকার করতে যাচ্ছেন যে, অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হয়ে থাকবে।
ট্রেজারির পূর্বাভাস অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি রিজার্ভ ব্যাংকের অনুমানের চেয়েও বেশি বাড়তে পারে। এর ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হবে এবং চাকরির বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বর্তমানে ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে পড়েছে, আর সেই পরিস্থিতির মধ্যেই সরকার তাদের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পূর্বাভাস চূড়ান্ত করার কাজ করছে।
গত কয়েক দিনে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৮ থেকে ১১৫ মার্কিন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করেছে। যদিও ২০০ ডলারের পরিস্থিতিকে “চরম” ধরা হচ্ছে, তবুও ট্রেজারির মূল পূর্বাভাস বলছে—যদি মে মাসের শেষ পর্যন্ত তেলের দাম ১০০ ডলারের আশেপাশে থাকে এবং আগামী বছরের মাঝামাঝি তা ৮০ ডলারে নেমে আসে, তাহলে জুনের শেষ নাগাদ মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে পৌঁছাবে।
এটি রিজার্ভ ব্যাংকের ৪.৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি। রিজার্ভ ব্যাংক গভর্নর মিশেল বুলক সম্প্রতি টানা তৃতীয়বার সুদের হার বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে সতর্ক করেন যে, যুদ্ধের আগেও অস্ট্রেলিয়ার মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি ছিল, আর ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলেছে। তিনি সরকারকে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানান।
জিম চ্যালমার্স স্বীকার করেছেন যে, “ইরান যুদ্ধ থেকে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার কাছে অস্ট্রেলিয়া এখন অনেকটাই জিম্মি।” তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে, যা অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
রিজার্ভ ব্যাংক ধারণা করছে আগামী ১৪ মাসে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মাত্র ১.৩ শতাংশে নেমে আসবে, যা জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় সমান। অর্থাৎ, প্রকৃত অর্থনৈতিক অগ্রগতি খুবই সীমিত থাকবে।
এদিকে, অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের গবেষণায় বলা হয়েছে, যদি ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তাহলে তেলের দাম ১৫০ ডলারের ওপরে যেতে পারে এবং অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি আগামী অর্থবছরে মন্দায় পড়তে পারে।
তবে এই পরিস্থিতিতে সরকারের রাজস্ব আয় কিছুটা বাড়তেও পারে, কারণ কয়লা ও গ্যাসের উচ্চমূল্যের কারণে কর আদায় বৃদ্ধি পাবে। অর্থনীতিবিদ হ্যারি ম্যাকঅলি বলেন, “অর্থনীতির ক্ষতি সরকারের জন্য কিছু ক্ষেত্রে লাভ বয়ে আনতে পারে,” কারণ খনিজ খাত থেকে কর রাজস্ব বেড়ে যাবে।
অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদ ক্রিস রিচার্ডসন মনে করেন, শুধুমাত্র বাজেট ঘাটতি কমানোকে সাফল্য হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না। তার মতে, সরকারের প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হলো এমন ব্যয়নীতি গ্রহণ করা, যা মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে না দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখে।
বর্তমানে রিজার্ভ ব্যাংকের নগদ সুদের হার ৪.৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে এবং বাজার বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, এ বছর আরও অন্তত একবার সুদের হার বাড়ানো হতে পারে। এতে গৃহঋণগ্রহীতাদের ওপর চাপ আরও বাড়বে, কারণ উচ্চ মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি তাদের ঋণের কিস্তিও বেড়ে যাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ান ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, অনেক পরিবার এখন আর্থিক চাপে রয়েছে এবং ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের সহায়তার জন্য বিশেষ টিম প্রস্তুত রেখেছে।










