অস্ট্রেলিয়ার আসন্ন ২০২৬ সালের ফেডারেল বাজেটকে ঘিরে বিনিয়োগকারী, সম্পত্তি মালিক এবং অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। কারণ সরকার এমন কিছু কর ও নীতিগত পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে, যা ব্যক্তিগত সম্পদ, সঞ্চয় এবং বিনিয়োগের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রেজারার Jim Chalmers এবং লেবার সরকার রাজস্ব বাড়ানো ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলার অংশ হিসেবে দীর্ঘদিনের কিছু কর সুবিধা পুনর্বিবেচনা করছে। বিশেষ করে ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স (CGT), নেগেটিভ গিয়ারিং এবং ট্রাস্টভিত্তিক কর কাঠামো এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স ডিসকাউন্ট। বর্তমানে কোনো সম্পদ ১২ মাসের বেশি সময় ধরে রাখার পর বিক্রি করলে অর্জিত লাভের ওপর ৫০ শতাংশ কর ছাড় পাওয়া যায়। তবে সরকার এই সুবিধা কমিয়ে দিতে পারে অথবা মূল্যস্ফীতিভিত্তিক নতুন ইনডেক্সেশন পদ্ধতি চালু করতে পারে বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। এমন পরিবর্তন হলে শেয়ার ও সম্পত্তি বিক্রির পর বিনিয়োগকারীদের প্রকৃত মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেট ঘোষণার আগেই অনেক বিনিয়োগকারী বর্তমান কর সুবিধা ধরে রাখতে সম্পদ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ফলে বাজারে বিক্রির চাপও তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, নেগেটিভ গিয়ারিং ব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা চলছে। বর্তমানে বিনিয়োগমূলক সম্পত্তির লোকসান অন্য আয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কর কমানোর সুযোগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যমান সম্পত্তিগুলোর জন্য এই সুবিধা বহাল থাকলেও ভবিষ্যতের বিনিয়োগকারীদের জন্য কঠোর সীমাবদ্ধতা বা ধাপে ধাপে সুবিধা কমিয়ে আনা হতে পারে।
এছাড়া ট্রাস্টভিত্তিক কর কাঠামোও সরকারের নজরে রয়েছে। পারিবারিক সম্পদ ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় বহুল ব্যবহৃত এই ব্যবস্থায় ন্যূনতম করহার এবং নতুন withholding rules চালুর প্রস্তাব উঠেছে। যদিও বিষয়টি এখনও জটিল পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এসব পরিবর্তন অবসরকালীন সঞ্চয়, সম্পত্তি বাজার, ভাড়ার হার এবং বিনিয়োগ আচরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কেউ কেউ মনে করছেন, কর সুবিধা কমানো হলে দীর্ঘমেয়াদে বাড়ির মালিকানা বাড়তে পারে। তবে একইসঙ্গে ভাড়া বাড়া এবং বিনিয়োগ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এদিকে বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর নতুন চার্জ বা road-user tax আরোপের সম্ভাবনাও আলোচনায় আছে। যদিও সরকার জানিয়েছে, তারা বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে চায় না।
আগামী ১২ মে ২০২৬ ফেডারেল বাজেট ঘোষণা করা হবে। আর্থিক পরামর্শকরা সতর্ক করছেন, যারা বড় বিনিয়োগ বা সম্পদসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন, তাদের বাজেটের পরিবর্তনগুলোর দিকে নিবিড় নজর রাখা উচিত এবং প্রয়োজন হলে আর্থিক পরিকল্পনায় নমনীয়তা আনা জরুরি।










