বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও খনিজপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় অস্ট্রেলিয়ান ডলার নতুন করে শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অস্ট্রেলিয়ার মুদ্রা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৭৫ সেন্ট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
বিশ্বজুড়ে আয়রন অর, তামা, স্বর্ণ ও জ্বালানি পণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে, যা অস্ট্রেলিয়ার রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কারণ অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম বড় কাঁচামাল রপ্তানিকারক দেশ। এর ফলে দেশটির অর্থনীতির ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ছে এবং অস্ট্রেলিয়ান ডলারের চাহিদাও শক্তিশালী হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক কমোডিটি র্যালির অন্যতম বড় সুবিধাভোগী এখন অস্ট্রেলিয়ান ডলার। চীনের বাড়তি চাহিদা, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা জ্বালানি ও ধাতব পণ্যের বাজারকে আরও অস্থির করে তুলেছে। এসব পরিস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার রপ্তানি খাতকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।
বিশেষ করে আয়রন অর এখনও অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য। একই সঙ্গে তামার দামও দ্রুত বাড়ছে, কারণ বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবকাঠামো, বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক শিল্পে তামার ব্যবহার বাড়ছে। এছাড়া বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দামও বেড়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হারও অস্ট্রেলিয়ান ডলারকে সমর্থন দিচ্ছে। উন্নত অনেক দেশের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় সুদের হার তুলনামূলক বেশি থাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অস্ট্রেলিয়ান সম্পদে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন।
তবে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ান ডলারের ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুই ধরনের প্রভাবই থাকতে পারে। বিদেশি পণ্য আমদানিকারক ব্যবসা ও সাধারণ ভোক্তারা কম দামে পণ্য কিনতে পারবেন, ফলে জ্বালানি, ইলেকট্রনিকস ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের খরচ কিছুটা কমতে পারে। অন্যদিকে পর্যটন, শিক্ষা ও উৎপাদনশিল্পের মতো রপ্তানিনির্ভর খাতগুলো বাড়তি চাপের মুখে পড়তে পারে, কারণ শক্তিশালী মুদ্রা বিদেশি ক্রেতাদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সেবা ও পণ্যকে তুলনামূলক ব্যয়বহুল করে তোলে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, পুরো পরিস্থিতি অনেকটাই চীনের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর নির্ভর করছে। চীন অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার হওয়ায় সেখানে শিল্প উৎপাদন বা নির্মাণ খাতে ধীরগতি দেখা দিলে কমোডিটির চাহিদা কমে যেতে পারে, যা অস্ট্রেলিয়ান ডলারের ওপরও চাপ সৃষ্টি করবে।
তারপরও বর্তমান বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে প্রয়োজনীয় খনিজের বাড়তি চাহিদার কারণে অস্ট্রেলিয়ার সম্পদনির্ভর অর্থনীতি এখন শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।










