Home পলিসি জালিয়াতিতে বিপর্যস্ত NDIS, অস্ট্রেলিয়ার করদাতাদের বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি

জালিয়াতিতে বিপর্যস্ত NDIS, অস্ট্রেলিয়ার করদাতাদের বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি

17
0

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় প্রতিবন্ধী সহায়তা কর্মসূচি National Disability Insurance Scheme (NDIS) এখন বড় ধরনের জালিয়াতি, অপচয় এবং দুর্বল তদারকির অভিযোগে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিশ্লেষক ও তদন্তকারীদের মতে, প্রতিবন্ধী সহায়তার জন্য তৈরি এই গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক কর্মসূচি এখন অসাধু ব্যবসায়ী, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র এবং অনৈতিক সেবা প্রদানকারীদের জন্য সহজ টার্গেটে পরিণত হয়েছে, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত বহন করতে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার করদাতাদের।

মূলত গুরুতর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে চালু হওয়া এই প্রকল্পকে একসময় অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বড় সামাজিক সংস্কার হিসেবে দেখা হয়েছিল। তবে সমালোচকদের দাবি, পরিকল্পনার দ্রুত সম্প্রসারণ হলেও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও কঠোর নজরদারি গড়ে তোলা হয়নি। ফলে অসাধু গোষ্ঠীগুলো সহজেই সিস্টেমের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করার সুযোগ পেয়েছে।

সরকারি তথ্য ও দুর্নীতি তদন্তকারীদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার হারিয়ে যাচ্ছে ভুয়া বিল, অতিরিক্ত চার্জ, পরিচয় চুরি, মিথ্যা সেবা দাবি এবং অংশগ্রহণকারীদের পরিকল্পনার অপব্যবহারের মাধ্যমে। সংসদীয় তদন্তে উপস্থাপিত অভ্যন্তরীণ এক হিসাব বলছে, NDIS-এর প্রায় ৮ শতাংশ অর্থ জালিয়াতি, অনিয়ম বা অনৈতিক দাবির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। অর্থাৎ প্রতিবছর করদাতাদের বিপুল অঙ্কের অর্থ অপচয় হচ্ছে।

দেশজুড়ে তদন্তে এমন অনেক ঘটনা সামনে এসেছে যেখানে সেবা প্রদানকারীরা বাস্তবে কোনো সেবা না দিয়েই বিল করেছে, সরকারি ছুটির দিন বা সপ্তাহান্তে সেবা না দিয়েও টাকা নিয়েছে, এমনকি অসহায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাপ দিয়ে অন্য সেবা প্রদানকারী বদলাতে বাধ্য করেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রতিষ্ঠান লাভের আশায় অংশগ্রহণকারীদের সহায়তা পরিকল্পনা ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করেছে এবং আর্থিক সুবিধা নেওয়ার জন্য তাদের শোষণ করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী Mark Butler সম্প্রতি স্বীকার করেছেন যে NDIS “প্রতারক ও দুর্নীতিবাজদের জন্য সহজ লক্ষ্যবস্তু” হয়ে উঠেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এখন বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা করছে। নতুন প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে যোগ্যতা নির্ধারণের নিয়ম কঠোর করা, সেবা প্রদানকারীদের ওপর কড়াকড়ি নজরদারি, স্বাধীন মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা এবং অর্থপ্রদানের ওপর আরও কঠোর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, সংস্কার না আনলে দশকের শেষ দিকে NDIS ব্যয় বছরে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যেতে পারে। তাই ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও সিস্টেমের বিশ্বাসযোগ্যতা ফেরাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছে সরকার।

তবে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। অনেক প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মী আশঙ্কা করছেন, অতিরিক্ত কড়াকড়ি বা ব্যয় কমানোর উদ্যোগে প্রকৃত সুবিধাভোগীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাদের মতে, এই প্রকল্প ইতোমধ্যেই হাজার হাজার প্রতিবন্ধী মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে, তাই সংস্কারের নামে যেন প্রয়োজনীয় সহায়তা কমিয়ে না দেওয়া হয়।

অন্যদিকে সংস্কারপন্থীরা বলছেন, করদাতাদের অর্থের দৃশ্যমান অপচয় এবং জালিয়াতির কারণে NDIS-এর প্রতি জনগণের আস্থা কমে যাচ্ছে। তাদের মতে, প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকা নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত দুর্নীতি কমানো, অপচয় বন্ধ করা এবং প্রকৃত প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের কাছেই অর্থ পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here