Home সম্পদ অস্ট্রেলিয়ায় সম্পদ গঠনের নিয়মে বড় পরিবর্তনের পথে লেবার সরকার

অস্ট্রেলিয়ায় সম্পদ গঠনের নিয়মে বড় পরিবর্তনের পথে লেবার সরকার

17
0

অস্ট্রেলিয়ার Australian Labor Party সরকার দেশটির সম্পদ গঠন ও বিনিয়োগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী Anthony Albanese-এর নেতৃত্বাধীন সরকার এমন কিছু কর সংস্কারের পরিকল্পনা করছে, যা সম্পত্তি, শেয়ার এবং বিনিয়োগ কাঠামোর মাধ্যমে সম্পদ তৈরির বর্তমান নিয়মকে আমূল বদলে দিতে পারে।

আসন্ন ফেডারেল বাজেটে এই পরিবর্তনগুলো বড় ইস্যু হিসেবে উঠে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নেগেটিভ গিয়ারিং, ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স (CGT) এবং পারিবারিক ট্রাস্টের কর ব্যবস্থায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলোর একটি হলো ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স ডিসকাউন্ট কমানো। বর্তমানে কোনো ব্যক্তি এক বছরের বেশি সময় ধরে রাখা সম্পদ—যেমন বাড়ি বা শেয়ার—বিক্রি করলে লাভের ওপর ৫০ শতাংশ কর ছাড় পান। তবে সরকার এই ছাড় কমিয়ে দিতে পারে অথবা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন ইনডেক্সেশন পদ্ধতি চালু করতে পারে।

সমালোচকদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের লাভ কমিয়ে দিতে পারে এবং মানুষকে শেয়ার ও সম্পত্তিতে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করবে। অন্যদিকে সরকারের সমর্থকরা বলছেন, বর্তমান ব্যবস্থায় সম্পদশালী বিনিয়োগকারীরাই বেশি সুবিধা পান এবং সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, বাড়ির বাজারে প্রবেশ করতে হিমশিম খাচ্ছে।

নেগেটিভ গিয়ারিং ব্যবস্থাতেও কড়াকড়ি আসতে পারে। বর্তমানে বিনিয়োগমূলক সম্পত্তির লোকসান অন্য আয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কর কমানোর সুযোগ রয়েছে। তবে নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য এই সুবিধা সীমিত করা হতে পারে। আলোচনায় থাকা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে শুধুমাত্র নতুন নির্মিত বাড়ির ক্ষেত্রে নেগেটিভ গিয়ারিং সুবিধা দেওয়া অথবা নির্দিষ্ট সংখ্যক সম্পত্তির বেশি এই সুবিধা না দেওয়া।

এছাড়া পারিবারিক ট্রাস্টগুলোর ওপরও সরকারের নজর বাড়ছে। উচ্চ আয়ের পরিবার ও ব্যবসায়ীরা কর কমানোর উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে ট্রাস্ট কাঠামো ব্যবহার করে আসছেন। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, এই ব্যবস্থায় ধনীরা অতিরিক্ত কর সুবিধা পাচ্ছেন। ফলে সরকার ট্রাস্টভিত্তিক কর নিয়ম আরও কঠোর করতে পারে।

সরকারের সমর্থকদের দাবি, বর্তমান করব্যবস্থা অতিরিক্তভাবে সম্পত্তি ও সম্পদভিত্তিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করছে, যা বাড়ির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং প্রজন্মগত বৈষম্য তৈরি করেছে। তারা মনে করেন, নতুন সংস্কার আবাসন খাতকে আরও সুষম করতে সাহায্য করবে এবং তরুণদের জন্য বাড়ি কেনার সুযোগ বাড়াবে।

তবে বিরোধীরা সতর্ক করছেন, অতিরিক্ত কর সংস্কার বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক আর্থিক বিশ্লেষক মনে করছেন, এতে সম্পত্তি বাজারে বিনিয়োগ কমে গিয়ে ভাড়ার সংকট আরও বাড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি ও রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে সরকার এখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি প্রজন্মগত ন্যায্যতার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে, এটি হবে অস্ট্রেলিয়ার কর ও বিনিয়োগ ব্যবস্থার অন্যতম বড় পরিবর্তন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here