Home পলিসি ডারউইন বন্দর নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু চীনা প্রতিষ্ঠানের

ডারউইন বন্দর নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু চীনা প্রতিষ্ঠানের

28
0

অস্ট্রেলিয়ার কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ Darwin Port বন্দরকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বন্দরটির নিয়ন্ত্রণে থাকা চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান Landbridge অস্ট্রেলিয়া সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি লড়াই শুরু করেছে। এর ফলে বহুদিনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিরোধ এখন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

চীনা প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, অস্ট্রেলিয়া সরকার যদি বন্দরটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে চায় অথবা জোরপূর্বক বিক্রির চেষ্টা করে, তবে তা Australia ও China-এর মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির লঙ্ঘন হবে। তাদের অভিযোগ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য যে সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছিল, সরকার সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে।

এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বিনিয়োগকারী-রাষ্ট্র বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার আওতায়, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তিতে ব্যবহৃত হয়। বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

২০১৫ সালে প্রায় ৫০৬ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ৯৯ বছরের জন্য ডারউইন বন্দরের লিজ পায় ল্যান্ডব্রিজ। সেই সময় এটি ছিল একটি বৈধ ও প্রতিযোগিতামূলক চুক্তি বলে জানানো হয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ায় এটি জাতীয় নিরাপত্তা বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে।

বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং উত্তর অস্ট্রেলিয়ায় সামরিক কার্যক্রমের কারণে বন্দরটির অবস্থান এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে মনে করছে ক্যানবেরা। Anthony Albanese সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, ডারউইন বন্দরকে আবারও অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনা হবে।

এ নিয়ে সম্ভাব্য অস্ট্রেলীয় ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।

অন্যদিকে ল্যান্ডব্রিজ বলছে, তারা বৈধভাবে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বন্দরটি অধিগ্রহণ করেছিল এবং একাধিক নিরাপত্তা পর্যালোচনায়ও কোনো ঝুঁকির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও অস্ট্রেলীয় সরকার বন্দরটির নিয়ন্ত্রণ ফেরত নিতে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।

চীনও এ ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বেইজিং ইঙ্গিত দিয়েছে, বিদেশে চীনা কোম্পানিগুলোর স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। ফলে এই বিরোধ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ অস্ট্রেলিয়ার মিত্র দেশগুলোও উত্তর অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে সামরিক ও কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে ডারউইন বন্দরের গুরুত্ব এখন অনেক বেশি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মামলা শুধু একটি বন্দরকে কেন্দ্র করে নয়; বরং ভবিষ্যতে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে বিদেশি বিনিয়োগ কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার নীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here