অস্ট্রেলিয়ায় ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে অনেক তরুণ আবারও নগদ টাকার ব্যবহার বাড়াচ্ছেন। ডিজিটাল ওয়ালেট ও মোবাইল পেমেন্টের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বাড়লেও, নতুন প্রজন্মের একটি বড় অংশ এখন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরোনো পদ্ধতি—হাতে নগদ টাকা ব্যবহারের দিকে ফিরে যাচ্ছে।
Australian Financial Review–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা “ক্যাশ বাজেটিং” পদ্ধতি। বিশেষ করে “Cash Stuffing” নামে পরিচিত একটি পদ্ধতি তরুণদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে।
এই পদ্ধতিতে মানুষ তাদের মাসিক আয় বিভিন্ন খরচের খাতে আলাদা খামে ভাগ করে রাখেন—যেমন খাবার, ভাড়া, বিনোদন, যাতায়াত বা সঞ্চয়। ফলে প্রতিটি খাতে কত টাকা ব্যয় হচ্ছে তা চোখের সামনে স্পষ্ট থাকে এবং অতিরিক্ত খরচের প্রবণতা কমে যায়।
অনেক তরুণের মতে, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমে খরচ করা অনেক সহজ এবং মানসিকভাবে কম অনুভূত হয়। মোবাইল অ্যাপ বা কার্ড দিয়ে মুহূর্তের মধ্যে টাকা খরচ হয়ে যায়, ফলে মানুষ বুঝতেই পারে না কতটা ব্যয় হয়ে গেছে। কিন্তু হাতে নগদ টাকা থাকলে খরচের বাস্তবতা স্পষ্টভাবে অনুভূত হয় এবং বাজেট মেনে চলা সহজ হয়।
এই প্রবণতা এমন সময়ে দেখা যাচ্ছে যখন অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। কন্ট্যাক্টলেস কার্ড, মোবাইল ওয়ালেট ও অনলাইন লেনদেন গত কয়েক বছরে ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। তবুও দীর্ঘদিন পতনের পর নগদ টাকার ব্যবহার সম্প্রতি স্থিতিশীল হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সামান্য বেড়েছেও।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় মোট লেনদেনের প্রায় ১৫ শতাংশ নগদ টাকায় হয়েছে এবং দেশটির প্রায় অর্ধেক মানুষ এখনও প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার নগদ ব্যবহার করেন।
নগদ টাকার প্রতি নতুন আগ্রহের পেছনে আরও কিছু কারণ রয়েছে। অনেকেই দোকানগুলোতে আরোপিত কার্ড সারচার্জ বা অতিরিক্ত ফি এড়াতে নগদ ব্যবহার করছেন। এছাড়া গোপনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ নগদ লেনদেন ডিজিটালি ট্র্যাক করা যায় না।
প্রযুক্তিগত সমস্যাও একটি কারণ। বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা সিস্টেম ডাউন হলে ডিজিটাল পেমেন্ট অকার্যকর হয়ে যেতে পারে, কিন্তু নগদ টাকা তখনও কার্যকর থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন তরুণ প্রজন্মের মানসিকতার একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একসময় যেখানে “ক্যাশলেস সোসাইটি” বা সম্পূর্ণ ডিজিটাল অর্থব্যবস্থাকে ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখা হচ্ছিল, সেখানে এখন অনেক তরুণ আর্থিক শৃঙ্খলা ও খরচ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য আবারও নগদ টাকাকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সুদের হার বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে তরুণদের মধ্যে অর্থ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে নতুন করে সচেতনতা তৈরি হয়েছে। আর সেই কারণেই প্রযুক্তিনির্ভর যুগেও নগদ টাকা এখনও অনেকের কাছে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য আর্থিক মাধ্যম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ রয়ে গেছে।










