অস্ট্রেলিয়ার ধনী সম্পত্তি বিনিয়োগকারী ও উচ্চ আয়ের ব্যক্তিরা লেবার সরকারের প্রস্তাবিত নতুন কর সংস্কারের আওতায় গড়ে প্রায় ৭৫ হাজার ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স (CGT) চাপের মুখে পড়তে পারেন বলে নতুন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন দেশটির ধনী এলাকাগুলোতে জনপ্রিয় “টিল” স্বতন্ত্র প্রার্থীদের রাজনৈতিক সমর্থনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না।
প্রস্তাবিত সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো সম্পত্তি ও বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট কর সুবিধাগুলো পুনর্বিন্যাস করা। বিশেষ করে ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স ডিসকাউন্ট এবং নেগেটিভ গিয়ারিং সুবিধা কমানো বা পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। সরকার মনে করছে, বর্তমান কর কাঠামো মূলত ধনী সম্পদ মালিকদের অতিরিক্ত সুবিধা দিচ্ছে এবং এতে সম্পদ বৈষম্য আরও বাড়ছে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কেউ যদি ১২ মাসের বেশি সময় ধরে কোনো সম্পদ — যেমন বাড়ি, বিনিয়োগ সম্পত্তি বা শেয়ার — ধরে রাখেন, তাহলে সেই সম্পদ বিক্রির লাভের ওপর ৫০ শতাংশ CGT ছাড় পান। কিন্তু নতুন পরিকল্পনায় এই ছাড় কমে যেতে পারে অথবা নতুন হিসাব পদ্ধতি চালু হতে পারে। এর ফলে উচ্চমূল্যের সম্পদ বিক্রির সময় ধনী বিনিয়োগকারীদের করের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, সিডনি ও মেলবোর্নের অভিজাত উপশহরগুলোতে বসবাসকারী অনেক বিনিয়োগকারী পরিবার গড়ে প্রায় ৭৫ হাজার ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত করের মুখোমুখি হতে পারেন। বিশেষ করে যাদের একাধিক সম্পত্তি বা বড় বিনিয়োগ পোর্টফোলিও রয়েছে, তাদের ওপর এই প্রভাব বেশি পড়বে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, তথাকথিত “টিল” আসনগুলো — যেখানে উচ্চশিক্ষিত, পরিবেশ সচেতন ও সামাজিকভাবে প্রগতিশীল ভোটারদের সংখ্যা বেশি — সেখানে অনেক মানুষ এই কর পরিবর্তনের ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও রাজনৈতিক সমর্থনে বড় পরিবর্তন নাও আসতে পারে। কারণ এসব ভোটার শুধু কর কমানোর রাজনীতির চেয়ে জলবায়ু নীতি, সুশাসন, রাজনৈতিক স্বচ্ছতা এবং সামাজিক সমতার মতো বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেন।
অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এই সংস্কার অস্ট্রেলিয়ার আবাসন সংকট এবং প্রজন্মগত বৈষম্য মোকাবিলার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। সরকারের সমর্থকদের মতে, বর্তমান কর সুবিধা সম্পত্তি বাজারে অতিরিক্ত জল্পনা-কল্পনা উৎসাহিত করে এবং বাড়ির দাম বাড়িয়ে তরুণদের জন্য বাড়ি কেনা কঠিন করে তুলছে। তারা বিশ্বাস করেন, কর ছাড় কমালে অর্থনীতি সম্পত্তি নির্ভরতা থেকে কিছুটা ভারসাম্যে ফিরবে।
অন্যদিকে সমালোচকরা সতর্ক করেছেন, এই পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং ভাড়া বাজারে চাপ বাড়াতে পারে। অনেক আর্থিক উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান কর নীতির ওপর ভিত্তি করে যারা অবসর পরিকল্পনা বা সম্পদ গড়ে তুলেছেন, তারা বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা খেতে পারেন।
অস্ট্রেলিয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট এবং বাজেট ঘাটতির চাপের মধ্যে কর সংস্কার এখন জাতীয় রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। লেবার সরকারের এই প্রস্তাব আগামী ফেডারেল বাজেট এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।










