সিডনিভিত্তিক শিল্পী Peter Godwin জিতে নিয়েছেন প্রথমবারের মতো আয়োজিত Australia China Art Residency Art Prize-এর ১ লাখ ডলারের প্রধান পুরস্কার। তার চিত্রকর্ম Li River (Pale Peak and Mist) শিল্পবোদ্ধা ও সমালোচকদের মুগ্ধ করে এই সম্মান অর্জন করেছে।
এই পুরস্কারটি শুধু শিল্পগুণের স্বীকৃতিই নয়, বরং Australia ও China-এর মধ্যকার সাংস্কৃতিক ও শিল্প বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
গডউইনের বিজয়ী চিত্রকর্মটি চীনের গুয়াংশি অঞ্চলের বিখ্যাত Li River-এর মনোমুগ্ধকর কার্স্ট পাহাড়কে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছে। শত শত বছর ধরে অসংখ্য চীনা শিল্পী এই দৃশ্যকে তাদের শিল্পে ফুটিয়ে তুলেছেন। সেই ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে নতুনভাবে তুলে ধরতে গিয়ে শুরুতে ভীষণ চাপ অনুভব করেছিলেন গডউইন।
তিনি জানান, ২০১৩ সালে গুইলিন সফরের সময় এই কাজ শুরু করেছিলেন এবং তখন তিনি “ভীষণ ভয়” অনুভব করেছিলেন। কারণ এই বিখ্যাত দৃশ্য নিয়ে ইতোমধ্যেই অসংখ্য মাস্টারপিস তৈরি হয়েছে। তিনি নিজের মধ্যে এক ধরনের “ইমপোস্টার সিনড্রোম” বা আত্মসন্দেহও অনুভব করেছিলেন।
তবে শেষ পর্যন্ত তার আধুনিক ও কাব্যিক উপস্থাপনাই দর্শক ও বিচারকদের মুগ্ধ করেছে। ছবিতে দেখা যায় শান্ত নদী, হালকা কুয়াশায় ঢাকা চুনাপাথরের পাহাড় এবং আলো-ছায়ার সূক্ষ্ম খেলা। সমালোচকদের মতে, এটি শুধু একটি প্রাকৃতিক দৃশ্য নয়; বরং সময়, আলো ও প্রকৃতির গভীর আবেগময় অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে।
এই পুরস্কার আয়োজন করেছে Australia China Art Residency Ltd, যারা দুই দেশের শিল্পী ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রমকে উৎসাহিত করে। পুরস্কারটি “acquisitive”, অর্থাৎ বিজয়ী শিল্পকর্মটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সংগ্রহে সংরক্ষিত থাকবে।
বর্তমানে গডউইনের এই কাজসহ অন্যান্য নির্বাচিত শিল্পীদের প্রদর্শনী সিডনির সেন্ট লিওনার্ডসে অবস্থিত ACAR গ্যালারিতে চলছে। সেখানে Angela Malone, Michelle Hungerford, David Collins এবং Joe Furlonger-এর কাজও প্রদর্শিত হচ্ছে। প্রদর্শনী চলবে ১৯ জুন ২০২৬ পর্যন্ত।
National Art School থেকে পড়াশোনা করা গডউইন বহু বছর সেখানে শিক্ষকতাও করেছেন। তার কাজের মূল বৈশিষ্ট্য হলো আলো, সময় ও স্থানের সূক্ষ্ম সম্পর্ক তুলে ধরা, যা এই পুরস্কারজয়ী চিত্রকর্মেও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
শিল্প সমালোচকদের মতে, গডউইনের এই কাজ শুধুমাত্র চীনা ল্যান্ডস্কেপের পুনর্নির্মাণ নয়; বরং এটি প্রকৃতির মহিমা ও মানবিক আবেগের এক গভীর ধ্যানমগ্ন প্রতিফলন। একইসঙ্গে এটি অস্ট্রেলিয়া ও চীনের শিল্প-সংযোগকে আরও শক্তিশালী করার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।










