অস্ট্রেলিয়ার Anthony Albanese সরকারের পক্ষ থেকে ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স (CGT) ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সম্পদ ১২ মাসের বেশি সময় ধরে রাখার পর বিক্রি করলে মূলধনী মুনাফার ওপর ৫০ শতাংশ কর ছাড় পাওয়া যায়। তবে নতুন প্রস্তাবে এই সরাসরি ছাড়ের পরিবর্তে “ইনফ্লেশন-অ্যাডজাস্টেড” বা মূল্যস্ফীতি সমন্বিত পদ্ধতি চালুর চিন্তা করা হচ্ছে।
এই ব্যবস্থায় সম্পদের প্রকৃত লাভের ওপর কর আরোপ করা হবে, অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির কারণে কাগুজে বা নামমাত্র যে লাভ তৈরি হয় তা বাদ দিয়ে কেবল প্রকৃত মুনাফা হিসাব করা হবে। এটি মূলত ১৯৯৯ সালের আগের করব্যবস্থার মতো, যেখানে সম্পদের লাভ থেকে মূল্যস্ফীতির অংশ বাদ দেওয়া হতো।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিবর্তন অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগ ও সম্পদ বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
কারা লাভবান হতে পারেন?
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলকভাবে লাভবান হতে পারেন, বিশেষ করে এমন পরিস্থিতিতে যেখানে মূল্যস্ফীতি বেশি কিন্তু প্রকৃত মুনাফা সীমিত। বর্তমানে ৫০ শতাংশ ছাড় ব্যবস্থায় অনেক সময় মূল্যস্ফীতিজনিত লাভের ওপরও কর দিতে হয়। নতুন পদ্ধতিতে শুধুমাত্র প্রকৃত লাভ করযোগ্য হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের করের বোঝা কমতে পারে।
বিশেষ করে এমন সম্পদ—যেমন কিছু আবাসন প্রকল্প বা শেয়ার—যেখানে দীর্ঘ সময়ে মূল্য বৃদ্ধি মূলত মূল্যস্ফীতির কারণে হয়েছে, সেখানে ইনফ্লেশন-অ্যাডজাস্টেড পদ্ধতি সুবিধা দিতে পারে।
কারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন?
বর্তমান ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে ৫০ শতাংশ CGT ছাড়ের সুবিধা ভোগ করা বিনিয়োগকারীরা নতুন নিয়মে বেশি করের মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে গত কয়েক দশকে তুলনামূলক কম মূল্যস্ফীতির সময়ে যেসব সম্পদের মূল্য দ্রুত বেড়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে প্রকৃত লাভের হিসাব আলাদা হওয়ায় করের পরিমাণ বাড়তে পারে।
স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীরাও ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন, কারণ তাদের লাভের বড় অংশ যদি কেবল নামমাত্র বা মূল্যস্ফীতিজনিত হয়, তাহলে বর্তমান ব্যবস্থার মতো বড় কর ছাড় আর নাও পাওয়া যেতে পারে।
এছাড়া তরুণ ও নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্যও এই পরিবর্তন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ বৃদ্ধি ও মূলধনী মুনাফার ওপর নির্ভর করে যারা সম্পদ গঠনের পরিকল্পনা করেন, তাদের কাছে বিনিয়োগ কিছুটা কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে—বিশেষ করে যদি মূল্যস্ফীতি প্রকৃত মুনাফাকে কমিয়ে দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাবের পেছনে সরকারের মূল লক্ষ্য হলো করব্যবস্থাকে আরও “ন্যায্য” করা এবং প্রকৃত আয় অনুযায়ী কর আরোপ নিশ্চিত করা। তবে সমালোচকদের মতে, এতে বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং সম্পদ বাজারে আচরণগত পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার আসন্ন ফেডারেল বাজেটকে ঘিরে এই সম্ভাব্য CGT সংস্কার এখন বিনিয়োগকারী, অর্থনীতিবিদ ও সম্পদ মালিকদের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।










