অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল বাজেটে আনা নতুন ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স পরিবর্তনের কারণে দেশটির স্মল-ক্যাপ ও প্রযুক্তিভিত্তিক শেয়ারগুলো বড় চাপের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, নতুন করব্যবস্থা বিশেষ করে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও দ্রুত প্রবৃদ্ধিনির্ভর বিনিয়োগ খাতকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ট্রেলিয়ার ছোট ও উদীয়মান কোম্পানিগুলোর জন্য খুচরা বা রিটেইল বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। প্রযুক্তি, বায়োটেক, স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী খাতে তালিকাভুক্ত অনেক প্রতিষ্ঠান মূলত ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের অর্থের ওপর নির্ভর করে দ্রুত সম্প্রসারণের সুযোগ পেয়েছে।
তবে নতুন কর পরিবর্তনের ফলে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি শেয়ার বিনিয়োগের লাভের ওপর কার্যকর করের চাপ বাড়তে পারে, যা রিটেইল বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলো তুলনামূলক কম প্রভাবিত হবে, কারণ সেগুলোতে মূলত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের প্রভাব বেশি। কিন্তু ছোট কোম্পানি ও উদীয়মান প্রযুক্তি খাতগুলো ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের ওপর বেশি নির্ভরশীল।
ফলে নতুন করব্যবস্থা ছোট শেয়ারের বাজারে তারল্য কমিয়ে দিতে পারে, অস্থিরতা বাড়াতে পারে এবং নতুন কোম্পানিগুলোর জন্য শেয়ারবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
এই উদ্বেগ এমন সময় সামনে এসেছে যখন প্রযুক্তি ও উচ্চ প্রবৃদ্ধিনির্ভর শেয়ারগুলো ইতোমধ্যেই উচ্চ সুদের হার, দুর্বল বিনিয়োগ মনোভাব এবং বৈশ্বিক বাজার অনিশ্চয়তার কারণে চাপের মধ্যে রয়েছে।
কিছু বাজার বিশ্লেষক আশঙ্কা করছেন, নতুন বাজেট পদক্ষেপের কারণে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ প্রবৃদ্ধিনির্ভর খাত থেকে অর্থ সরিয়ে নিরাপদ ও স্থিতিশীল আয়ভিত্তিক খাতে ঝুঁকতে পারেন।
আর্থিক পরামর্শকরাও সতর্ক করেছেন, বিশেষ করে তরুণ বিনিয়োগকারী এবং স্ব-পরিচালিত সুপারঅ্যানুয়েশন ফান্ডের সদস্যরা নতুন স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী কোম্পানিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হয়ে যেতে পারেন, যদি কর পরবর্তী লাভ কমে যায়।
সমালোচকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এটি অস্ট্রেলিয়ার উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতি ও উদ্যোক্তা পরিবেশের জন্য নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রযুক্তি ও নতুন ব্যবসায়িক ধারণাভিত্তিক কোম্পানিগুলোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মূলধন প্রবাহ কমে গেলে দেশটির উদ্ভাবনী খাতের প্রবৃদ্ধিও ধীর হয়ে যেতে পারে।
এখন বিনিয়োগকারীরা নজর রাখছেন, সরকার এই কর সংস্কারে কোনো সমন্বয় আনে কি না এবং নতুন নীতির প্রভাব অস্ট্রেলিয়ার শেয়ারবাজার ও প্রযুক্তি খাতে কতটা গভীর হয়।










