যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping–এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে বেইজিং পৌঁছেছেন। এই সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে রয়েছেন মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এবং ট্রাম্প পরিবারের সদস্যরা। বিশ্বজুড়ে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, তাইওয়ান এবং ইরান সংকট ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সফরসঙ্গীদের তালিকা স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে ওয়াশিংটন এবার অর্থনৈতিক কূটনীতি ও ব্যবসায়িক সহযোগিতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সফরে থাকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হলেন মার্কিন রাজনীতিক Marco Rubio। যদিও ২০২০ সালে মানবাধিকার ইস্যুতে চীনের সমালোচনা করায় বেইজিং তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, তবুও তাকে প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের জটিল বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে।
এছাড়া মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth–ও সফরে রয়েছেন। তিনি কয়েক বছরের মধ্যে প্রথম মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে চীন সফর করছেন। সফরে আছেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি Scott Bessent, যিনি সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লাইফেংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
সফরের সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি হলো বড় বড় মার্কিন কোম্পানির প্রধান নির্বাহীদের উপস্থিতি। বেইজিংয়ে পৌঁছানো প্রতিনিধিদলে ছিলেন Elon Musk, যার কোম্পানি Tesla–এর চীনে বড় বিনিয়োগ রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ট্রাম্প ও মাস্কের সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও এই সফরে তাদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
এছাড়া প্রতিনিধি দলে রয়েছেন Tim Cook, Larry Fink এবং Jensen Huang। পাশাপাশি Apple, BlackRock, NVIDIA, Boeing, Goldman Sachs, Visa, Qualcomm, Micron Technology এবং Meta–এর কর্মকর্তারাও সফরে অংশ নিয়েছেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এত বড় কর্পোরেট প্রতিনিধিদল সঙ্গে থাকায় বৈঠকে শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত বড় ধরনের চুক্তি বা আলোচনা হতে পারে।
ট্রাম্প পরিবারের সদস্য Eric Trump ও Lara Trump–ও সফরে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া চলচ্চিত্র নির্মাতা Brett Ratner–এর উপস্থিতিও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি সম্প্রতি Melania Trump–কে নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি নির্মাণ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ট্রাম্প-শি বৈঠক ভবিষ্যতের যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের দিক নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা এবং অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে দুই পরাশক্তির এই বৈঠকের দিকে এখন নজর পুরো বিশ্বের।










