Home চাকরি অস্ট্রেলিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ৬% বাড়ানোর দাবি, ব্যবসায়ীদের সতর্কবার্তা — বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি

অস্ট্রেলিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ৬% বাড়ানোর দাবি, ব্যবসায়ীদের সতর্কবার্তা — বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি

14
0

অস্ট্রেলিয়ার শ্রমিক ইউনিয়নগুলো দেশের ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির নতুন ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে কম আয়ের শ্রমিকদের সুরক্ষা দেওয়া এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

দেশটির বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন Australian Council of Trade Unions (ACTU) শুরুতে ৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক ফেডারেল বাজেট পূর্বাভাসে আগামী মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়ার পর তারা দাবি বাড়িয়ে ৬ শতাংশে নিয়ে যায়।

ACTU-এর সেক্রেটারি Sally McManus বলেন, নিম্ন আয়ের কর্মীরা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অনিশ্চয়তা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তিনি বিশেষভাবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সময়কার বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেন। তার মতে, “আরেক দফা মূল্যস্ফীতির চাপে ন্যূনতম মজুরি পাওয়া কর্মীরা পিছিয়ে পড়তে পারে না।”

তবে এই দাবি ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। তাদের আশঙ্কা, এত বড় মজুরি বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং ইতোমধ্যে উচ্চ সুদের হার, জ্বালানি ব্যয় ও দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থার মুখোমুখি ব্যবসাগুলোর ওপর নতুন চাপ তৈরি করবে।

Australian Chamber of Commerce and Industry জানিয়েছে, ৬ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি কার্যকর হলে পুরো অর্থনীতিতে প্রায় ১৪.৭ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার অতিরিক্ত শ্রম ব্যয় যুক্ত হতে পারে।

অন্য ব্যবসায়ী সংগঠন যেমন Australian Industry Group এবং Business Council of Australia বলছে, উৎপাদনশীলতা না বাড়িয়ে শুধুমাত্র মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় মজুরি বাড়ালে সেটি শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম আরও বাড়াবে এবং সুদের হারের ওপরও চাপ সৃষ্টি করবে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী Anthony Albanese-এর সরকার “অর্থনৈতিকভাবে টেকসই বাস্তব মজুরি বৃদ্ধি”-র পক্ষে অবস্থান নিলেও নির্দিষ্ট কোনো শতাংশ সমর্থন করেনি।

এই মজুরি নির্ধারণ প্রক্রিয়া এখন অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শ্রমিক এবং আর্থিক বাজারে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কারণ, দেশটির ন্যূনতম মজুরি সংক্রান্ত বার্ষিক সিদ্ধান্ত সাধারণত পুরো অর্থনীতির অন্যান্য মজুরি আলোচনাতেও প্রভাব ফেলে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি বড় অঙ্কের মজুরি বৃদ্ধি অনুমোদন করা হয়, তাহলে তা একদিকে নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কিছুটা বাড়াতে পারে, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে নতুন উদ্বেগও তৈরি করতে পারে।

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি এমন এক সময় পার করছে, যখন বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাপ একসঙ্গে কাজ করছে। ফলে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর এই বিতর্ক এখন শুধু শ্রমিক অধিকার নয়, বরং পুরো দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here