Home চাকরি উপন্যাস লেখার জন্য কর্মীর চার দিনের কর্মসপ্তাহের অধিকার স্বীকৃতি

উপন্যাস লেখার জন্য কর্মীর চার দিনের কর্মসপ্তাহের অধিকার স্বীকৃতি

28
0

অস্ট্রেলিয়ায় কর্মক্ষেত্রে নমনীয় কাজের ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে গুরুত্বপূর্ণ এক রায় দিয়েছে Fair Work Commission। কমিশন এক প্রবীণ কর্মীকে সপ্তাহে চার দিন কাজ করার অনুমতি দিয়েছে, যাতে তিনি অবসরের কাছাকাছি সময়ে ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক ভারসাম্য এবং উপন্যাস লেখার মতো সৃজনশীল কাজে বেশি সময় দিতে পারেন।

ঘটনাটি একজন ষাটোর্ধ্ব নির্মাণ ব্যবস্থাপককে ঘিরে, যিনি Anthony Albanese সরকারের সম্প্রসারিত নমনীয় কর্মঘণ্টা আইনের আওতায় কাজের সময় কমানোর আবেদন করেছিলেন।

কর্মীটি যুক্তি দেন, সপ্তাহে চার দিন কাজ করলে তিনি কাজের চাপ কমাতে পারবেন, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন এবং অবসর পরিকল্পনার পাশাপাশি গল্প-উপন্যাস লেখার মতো ব্যক্তিগত আগ্রহের পেছনে সময় দিতে পারবেন।

পরবর্তীতে Fair Work Commission তার পক্ষে রায় দেয়। কমিশন জানায়, নিয়োগকর্তা কর্মীর আবেদন প্রত্যাখ্যান করার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী কার্যকরী বা ব্যবসায়িক কারণ দেখাতে পারেনি।

এই রায়কে অস্ট্রেলিয়ার নতুন কর্মক্ষেত্র নমনীয়তা আইনের একটি বড় পরীক্ষামূলক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন আইনের ফলে কর্মীরা এখন নিয়োগকর্তার সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে সরাসরি কর্মসংস্থান ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার বেশি সুযোগ পাচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় অস্ট্রেলিয়ার কর্মসংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তনের প্রতিফলন। কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে দেশটিতে হাইব্রিড কাজ, নমনীয় কর্মঘণ্টা এবং কম সময়ের কর্মসপ্তাহ ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

চার দিনের কর্মসপ্তাহের সমর্থকরা বলছেন, কর্মীর উৎপাদনশীলতা অফিসে কত ঘণ্টা বসে আছে তার ওপর নয়, বরং কাজের ফলাফলের ওপর নির্ভর করা উচিত।

গবেষক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর মতে, সঠিকভাবে পরিকল্পিত চার দিনের কর্মব্যবস্থা কর্মীদের মানসিক সুস্থতা বাড়াতে, চাপ কমাতে এবং দীর্ঘমেয়াদে কর্মী ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

অস্ট্রেলিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চালানো পরীক্ষামূলক চার দিনের কর্মসপ্তাহ প্রকল্পগুলোতেও বেশ ইতিবাচক ফল দেখা গেছে। অনেক গবেষণায় কর্মীদের ক্লান্তি কমা, অসুস্থতাজনিত ছুটি হ্রাস এবং কাজের সন্তুষ্টি বাড়ার তথ্য উঠে এসেছে।

তবে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তাদের মতে, সব শিল্পে চার দিনের কর্মসপ্তাহ বাস্তবায়ন সহজ নয়।

বিশেষ করে যেসব খাতে নিরবচ্ছিন্ন কর্মী উপস্থিতি, সরাসরি গ্রাহকসেবা বা নির্দিষ্ট সময়সূচিভিত্তিক কার্যক্রম প্রয়োজন, সেখানে কম কর্মঘণ্টা পরিচালনা করা কঠিন হতে পারে।

কিছু নিয়োগকর্তা আশঙ্কা করছেন, সঠিকভাবে কাজের চাপ পুনর্বিন্যাস না করা হলে শ্রম ব্যয় বাড়তে পারে এবং উৎপাদনশীলতা কমে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা অস্ট্রেলিয়ার বয়স্ক কর্মশক্তির পরিবর্তিত চাহিদারও প্রতিফলন। এখন অনেক প্রবীণ কর্মী ধীরে ধীরে অবসরে যেতে চান এবং একই সঙ্গে ব্যক্তিগত আগ্রহ ও জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখতে চান।

শ্রমিক সংগঠন ও কর্মী অধিকারকর্মীরা এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি প্রমাণ করছে যে নমনীয় কাজের অধিকার এখন শুধু নীতিগত প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবেও কার্যকর হতে শুরু করেছে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলো সতর্ক করেছে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আরও কর্মীকে ব্যক্তিগত জীবনধারা বা শখের কারণে কম কর্মঘণ্টা দাবি করতে উৎসাহিত করতে পারে, যা কর্মক্ষেত্রে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here