অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী Anthony Albanese এবং ট্রেজারার Jim Chalmers-এর প্রস্তাবিত ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স (CGT) সংস্কার নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠছে। এবার বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন কর পরিবর্তনগুলো শুধুমাত্র আবাসন খাত—বিশেষ করে “হাউস ফ্লিপিং”-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয় এবং শেয়ারবাজার বা অন্যান্য বিনিয়োগ সম্পদের ওপর ব্যাপকভাবে প্রয়োগ না করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ান ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউ উইকেন্ডের এক বিশ্লেষণে অস্ট্রেলিয়ান ট্যাক্সেশন অফিসের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের মোট ক্যাপিটাল গেইনের ৪০ শতাংশেরও কম আসে আবাসন খাত থেকে। বাকি ৬০ শতাংশের বেশি আসে ASX-এ তালিকাভুক্ত শেয়ার, ম্যানেজড ফান্ড, ট্রাস্ট এবং অন্যান্য সম্পদ যেমন সংগ্রহযোগ্য বিনিয়োগ থেকে।
এই তথ্য সরকারের সেই যুক্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে যেখানে বলা হচ্ছে, CGT সংস্কার মূলত আবাসন বাজারে বিনিয়োগকারীদের চাপ কমিয়ে তরুণদের জন্য বাড়ি কেনা সহজ করবে।
অ্যাক্টিভিস্ট বিনিয়োগকারী John Wylie প্রকাশ্যে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কর পরিবর্তন যদি শেয়ারবাজার ও ব্যবসায়িক সম্পদের ওপরও চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তার মতে, আবাসন বাজারের সমস্যা সমাধানের নামে পুরো বিনিয়োগ খাতকে চাপে ফেলা হলে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, স্টার্টআপ ও ব্যবসায়িক সম্প্রসারণে বিনিয়োগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরকারের প্রস্তাবিত সংস্কারের আওতায় বর্তমানে থাকা ৫০ শতাংশ CGT ডিসকাউন্ট তুলে দিয়ে তার পরিবর্তে মুদ্রাস্ফীতিভিত্তিক ইনডেক্সেশন পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের জুলাই থেকে লাভের ওপর ন্যূনতম ৩০ শতাংশ কর আরোপের কথাও বলা হয়েছে।
এছাড়া নেগেটিভ গিয়ারিং নীতিতেও পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নতুন নির্মাণ প্রকল্পে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে নতুন বাড়ির ক্ষেত্রে কিছু কর-ছাড় বহাল রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে বিদ্যমান বিনিয়োগগুলোকে “গ্র্যান্ডফাদারিং” সুবিধার আওতায় রাখার কথাও বলা হয়েছে, অর্থাৎ পুরনো বিনিয়োগকারীরা কিছুটা সুরক্ষা পেতে পারেন।
সমালোচকদের মতে, সরকারের এই “একই নীতি সবার জন্য” ধরনের পদ্ধতি অনাকাঙ্ক্ষিত বাজার অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে অবসরভাতা তহবিল, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়িক আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তবে সরকার এখনো দাবি করছে, আবাসন সংকট মোকাবিলা এবং তরুণ অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য বাড়ি কেনার সুযোগ বাড়াতেই এই কর সংস্কার জরুরি। বর্তমান বাজারে বিনিয়োগকারীদের আধিপত্য কমানো না গেলে সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ির মালিক হওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলেও সরকার মনে করছে।










