অস্ট্রেলিয়ায় বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে এখন অনেক মানুষ অতিরিক্ত আয়ের নতুন নতুন পথ খুঁজছেন। দৈনন্দিন খরচ মেটানো, সঞ্চয় বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনেকেই একাধিক “সাইড হাসল” বা অতিরিক্ত আয়ের কাজে যুক্ত হচ্ছেন।
২০২৬ সালের ফেডারেল বাজেটে করছাড় ও আবাসন সহায়তার মতো কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও অনেক অস্ট্রেলিয়ান বলছেন, বাস্তব জীবনের আর্থিক চাপ এখনো কমেনি। ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে খরচ, সঞ্চয় এবং জীবনযাত্রার ধরন নতুনভাবে সাজিয়ে নিচ্ছেন।
Sydney-এর স্বাস্থ্যকর্মী Kirsty Nauth তাদেরই একজন, যিনি পূর্ণকালীন চাকরির পাশাপাশি একাধিক অতিরিক্ত আয়ের উৎস তৈরি করেছেন।
তিনি বেবিসিটিং, গাড়ি পার্কিং স্পেস ভাড়া দেওয়া, “মিস্ট্রি শপিং”, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশগ্রহণ এবং অনলাইন জরিপ পূরণের মতো বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে বাড়তি আয় করছেন।
Kirsty Nauth বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার ফলে তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি হিসাবি ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে খরচ করতে শিখেছেন।
২০২০ সালে Randwick এলাকায় যাওয়ার পর থেকে তার দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা তার মাসিক বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে।
তিনি জানান, কোভিড মহামারির সময় থেকেই তিনি নিজের জন্য কঠোর আর্থিক নিয়ম তৈরি করেছিলেন। মূল লক্ষ্য ছিল সঞ্চয় বাড়ানো এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া—বিশেষ করে নিজের বাড়ি কেনা ও অবসর জীবনের জন্য অর্থ জমা করা।
খরচ কমাতে তিনি বাজার করার অভ্যাসও বদলে ফেলেছেন। এখন তিনি মাংসের মতো ব্যয়বহুল খাবারের বদলে তুলনামূলক সস্তা ও দীর্ঘস্থায়ী খাবার যেমন বিনস, ডাল ও অন্যান্য শস্যজাতীয় খাবারের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।
তার অনেক সাইড হাসল থেকে হয়তো খুব বড় অঙ্কের আয় আসে না, কিন্তু তার মতে “প্রতিটি অতিরিক্ত ডলারই গুরুত্বপূর্ণ”, কারণ সেগুলো মুদি পণ্য, বিল ও অন্যান্য জরুরি খরচ মেটাতে সাহায্য করে।
তিনি আরও বলেন, এসব কাজকে তিনি শুধু অতিরিক্ত আয়ের উৎস হিসেবে নয়, বরং অবসর সময়ের “উৎপাদনশীল ব্যবহার” হিসেবেও দেখেন।
তার সবচেয়ে ব্যতিক্রমধর্মী আয়ের একটি উৎস হলো সিডনির রাস্তায় ফেলে দেওয়া পুরোনো আসবাবপত্র সংগ্রহ করে সেগুলো মেরামত ও নতুনভাবে সাজিয়ে অনলাইনে বিক্রি করা।
তার মতে, কোভিড-পরবর্তী সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় মানুষ এখন আগের চেয়ে বেশি সৃজনশীল ও সহযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। অনেকে দক্ষতা বিনিময়, সম্পদ ভাগাভাগি এবং বিকল্প উপায়ে একে অপরকে আর্থিকভাবে সহায়তা করার চেষ্টা করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা অস্ট্রেলিয়ানদের আয়ের উৎস বৈচিত্র্যময় করতে বাধ্য করছে। বাড়িভাড়া, খাদ্যদ্রব্য, বিদ্যুৎ ও দৈনন্দিন খরচ বাড়তে থাকায় “সাইড হাসল” এখন শুধু অতিরিক্ত আয়ের বিকল্প নয়—অনেকের জন্য এটি আর্থিক টিকে থাকার কৌশলে পরিণত হয়েছে।
তবুও Kirsty Nauth আশাবাদী। তিনি বিশ্বাস করেন, তার এই বাড়তি পরিশ্রম ও সঞ্চয়ের অভ্যাস একদিন তাকে নিজের বাড়ি কেনা এবং বিদেশে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করবে।










